রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এর লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) জনস্বার্থে এই রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনূছ আলী আকন্দ।
রিট আবেদনে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ১৯৮২ সালের মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ রেগুলেশন অর্ডিন্যান্সকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, এই আইন অনুযায়ীই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়, যা আইনি ভিত্তিতে প্রশ্নবিদ্ধ।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতোমধ্যেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারিত রয়েছে বলে জানা গেছে। বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিটটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে ৩০ দিনের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে।
এর আগে, ২৭ মে ঈদের আগের দিন সকালে হাসপাতালটির পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালের ভেতরে ওয়ার্ডে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ সময় ধরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বন্ধ থাকা, পর্যাপ্ত বিকল্প ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না থাকা এবং বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াই নবজাতকদের মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করছে এবং আইনি পথে এর বৈধতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে।
এই ঘটনায় স্বাস্থ্য খাতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং রোগী সেবার গুণগত মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জবাবদিহিতা এবং সরকারি তদারকি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইনজীবীরা বলছেন, আদালতের রায়ই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে সঠিক ছিল কি না। একই সঙ্গে বিষয়টি ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আইনি প্রক্রিয়া এখন দেশের স্বাস্থ্যখাত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
কসমিক ডেস্ক