চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নে অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন পাইন্দং ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক নজরুল ইসলাম (৩৫), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল বশর (৩৬), ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ (২৫), ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য করিম (১৯), আকিব (১৯), নাহিন (২০), ইলিয়াস (৪৪) এবং নজরুল (৪০)। সংঘর্ষে আহত এসব ব্যক্তিকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাইন্দং এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ নিরসনের জন্য ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকটি ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
তবে বৈঠক চলাকালে একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে ছাত্রদল নেতা রিয়াদ অভিযোগ করে বলেন, সমঝোতার কথা বলে তাদের বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তাদের ওপর হকিস্টিক দিয়ে হামলা করা হয়। এতে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ভিন্ন অভিযোগ তুলে বলেন, ছাত্রদলের কিছু সদস্য মাদক ও অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলা হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায়। এর জের ধরেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি বাবর চৌধুরী জানান, পাইন্দং এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তিনি জানেন। তবে বৈঠকে ঠিক কী কারণে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি।
পাইন্দং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মঈনউদ্দিন চৌধুরী বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন নেতাদের অবহিত করবেন বলেও জানান।
ঘটনার বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সেলিম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়ভাবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা বিরাজ করে। তবে আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে বলে জানা গেছে।
অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধের ঘটনা নতুন নয় বলে এলাকাবাসীর দাবি। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়।
কসমিক ডেস্ক