ময়মনসিংহে চতুর্থ দিনের মতো চলছে ১৪৪ ধারা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ময়মনসিংহে চতুর্থ দিনের মতো চলছে ১৪৪ ধারা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 7, 2026 ইং
ময়মনসিংহে চতুর্থ দিনের মতো চলছে ১৪৪ ধারা ছবির ক্যাপশন: ময়মনসিংহে চতুর্থ দিনের মতো চলছে ১৪৪ ধারা

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর জারি করা ১৪৪ ধারা চতুর্থ দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। শুধুমাত্র দুই-তিনটি ওষুধের দোকান ছাড়া সব দোকানপাট বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

এর আগে গত ৪ জুন খারুয়া ও নরেন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় দোকানপাট ভাঙচুর এবং মালপত্র লুটপাটের অভিযোগও পাওয়া যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে থানা-পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে আট রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা প্রশাসন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। এই নির্দেশনা দেন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা জান্নাত

১৪৪ ধারা জারির কারণে বাজার ও আশপাশের এলাকায় জনসমাগম, দোকান খোলা ও সাধারণ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। খারুয়া বাজারের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় একটি ফার্মেসির মালিক জানান, জরুরি ওষুধের প্রয়োজন বিবেচনায় তিনি দোকান খোলা রেখেছেন, তবে বেচাকেনা প্রায় নেই বললেই চলে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক থাকায় তারা বাজারে আসছেন না। ফলে দৈনন্দিন ব্যবসা কার্যত বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

খারুয়া বাজারের কয়েকজন ফল ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েকদিন দোকান বন্ধ থাকায় পচনশীল ফল নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু ফল বাড়িতে নিয়ে গেলেও অধিকাংশই ফেলে দিতে হয়েছে, যা তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, ১৪৪ ধারা জারির কারণে অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে অনাগ্রহী। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৮০ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৬৮ জন একদিনে উপস্থিত ছিল।

স্বাস্থ্যসেবা খাতেও প্রভাব পড়েছে। খারুয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রায় জনশূন্য অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় মহিলা মাদরাসা ও কওমি মাদরাসাগুলোতেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

সংঘর্ষ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ৭০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকশ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছে। এতে গ্রেপ্তারের আতঙ্কে অনেকেই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু নিরীহ মানুষকেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা ঘটনার সময় বাজারে উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন। এ নিয়ে এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। নান্দাইল উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার বা শিথিল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্তমানে পুরো খারুয়া বাজার এলাকা কার্যত থমথমে অবস্থায় রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি কম এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত থাকায় জনজীবনে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয়রা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মৌমাছির পরাগায়নে লিচুর উৎপাদন বাড়ছে চিরিরবন্দরে

মৌমাছির পরাগায়নে লিচুর উৎপাদন বাড়ছে চিরিরবন্দরে