সাদাপাথরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সাদাপাথরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 3, 2026 ইং
সাদাপাথরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার ছবির ক্যাপশন:

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে গোসল করতে নেমে পানির প্রবল স্রোতে নিখোঁজ হওয়া চিকিৎসক সুব্রত সাহা বিকাশের (৩৩) মরদেহ প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে ধলাই নদীর ব্যাংকার এলাকার ৩ নম্বর পিলারের কাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে সাদাপাথরে পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় নৌকার মাঝি রুবেল মিয়া ধলাই নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহটি তীরে তুলে পুলিশকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে সাদাপাথরে ঘুরতে যান লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার বাসিন্দা চিকিৎসক সুব্রত সাহা বিকাশ। ভোলাগঞ্জের জিরোপয়েন্ট এলাকায় ধলাই নদীর উৎসমুখে গোসল করার সময় তিনি হঠাৎ প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় নৌকার মাঝি রুবেল মিয়া জানান, সকালে মাছ ধরার সময় প্রথমে তিনি নদীর পানিতে মানুষের মাথার চুলের মতো কিছু ভাসতে দেখেন। পরে কাছে গিয়ে সেটি একটি মরদেহ বলে নিশ্চিত হন। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করে দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

নিহত সুব্রত সাহা বিকাশ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার বাসিন্দা এবং মিহির লাল সাহার ছেলে। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম খান জানান, নিখোঁজ চিকিৎসক সুব্রত সাহা বিকাশের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করার পর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই দুর্ঘটনার পর বর্ষা মৌসুমে সাদাপাথর এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বর্ষাকালে ধলাই নদীতে পানির প্রবাহ ও স্রোত অত্যন্ত তীব্র থাকে। অনেক পর্যটক ঝুঁকির মাত্রা সম্পর্কে না জেনেই নদীতে নামেন, যা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যটকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোতের কারণে সাদাপাথরের ধলাই নদী বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই স্থানীয়রা পর্যটকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের আরও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আরিফুল হক পাবেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব

আরিফুল হক পাবেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব