সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় এক গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে তার দুই বছরের শিশুসন্তানকে নানির জিম্মায় দেওয়ার বিষয়টিও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া নারী জান্নাতি খাতুন (২৫) তাড়াশ উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর পাটগাড়ি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী। তিনি মাঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) নামে একটি এনজিওর নাটোর শাখা থেকে নেওয়া ক্ষুদ্রঋণের একটি মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, জান্নাতির স্বামী আব্দুর রাজ্জাক একসময় টিএমএসএস এনজিওর গুরুদাসপুর উপজেলার কাছিকাটা শাখায় ফিল্ড সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২৪ হাজার ৮০০ টাকা জামানত হিসেবে জমা রাখেন। একই সময়ে তার স্ত্রীর নামে ৫০ হাজার টাকা ক্ষুদ্রঋণ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে আব্দুর রাজ্জাক চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। তিনি দাবি করেন, ঋণের মধ্যে ২৫ হাজার টাকা ইতোমধ্যে কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়েছিল এবং চাকরির সময় জমা রাখা জামানতের টাকা ঋণের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য তিনি এনজিও কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছিলেন। তবে এনজিও কর্তৃপক্ষ সেই জামানত সমন্বয় না করে ঋণ অনাদায়ের অভিযোগে আদালতে মামলা করে।
এই মামলার ভিত্তিতে আদালত জান্নাতি খাতুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাড়াশ থানা পুলিশ নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। রাতে তাকে থানার হাজতে রাখা হয় এবং শুক্রবার সকালে আদালতের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারের সময় জান্নাতি খাতুনের সঙ্গে থাকা তার দুই বছরের শিশুসন্তানকে পরে নানির জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, জান্নাতির স্বামী আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, তারা ঋণের একটি অংশ পরিশোধ করলেও এনজিও কর্তৃপক্ষ জামানত হিসেবে রাখা অর্থ সমন্বয় না করায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তার অভিযোগ, বিষয়টি সমাধানের সুযোগ না দিয়েই মামলা করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে তার স্ত্রীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, নাটোরের একটি আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে জান্নাতি খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, শিশুটির নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে তার নানির জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থাপনা, কিস্তি আদায় এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। অনেকেই বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ ঋণ ব্যবস্থার কঠোরতার দিকটিও তুলে ধরছেন।
কসমিক ডেস্ক