ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার বিশেষ দূত আন্দ্রে বেলোউসভ বলেছেন, ইউক্রেনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা বা ভিত্তি রাশিয়ার নেই।
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনা সম্মেলনের ১১তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার অংশ।
বেলোউসভ বলেন, এই ধরনের জল্পনা মূলত রুশ-বিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়ার জন্য ছড়ানো হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তার মতে, রাশিয়া বরং উত্তেজনা কমানোর দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে যেকোনো ধরনের সরাসরি সংঘাত এড়ানোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার নীতি হচ্ছে—পারমাণবিক অস্ত্র কখনোই ব্যবহার না হওয়া নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখা।
জাতিসংঘে রুশ প্রতিনিধি জোর দিয়ে বলেন, পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি হ্রাস করা এবং সংঘাতকে বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে না দেওয়া রাশিয়ার কৌশলগত অগ্রাধিকার। তিনি দাবি করেন, মস্কো আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিয়মিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
রাশিয়ার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে বারবার সম্ভাব্য পারমাণবিক উত্তেজনার কথা উঠে এসেছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে রাশিয়া বরাবরই এসব আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন বলে আসছে। তাদের দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি এবং জনমত প্রভাবিত করার জন্য এসব ইস্যু সামনে আনছে।
এনপিটি সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দেওয়া এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়ছে। তবে রাশিয়ার এই বক্তব্য পরিস্থিতিকে কিছুটা হলেও কূটনৈতিক পরিসরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান এখনো সতর্ক। তারা যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য পারমাণবিক ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করা হলেও ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। কূটনৈতিক আলোচনা ও আন্তর্জাতিক চাপই ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
কসমিক ডেস্ক