রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনের মধ্যেই আবারও ঘটলো এক উদ্বেগজনক ঘটনা। ছিনতাইকারীর আক্রমণে আহত হয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুশিল্পী মুগ্ধতা মোরশেদ ঋদ্ধি। এ ঘটনায় তার বাবা মনজুর মোরশেদ নয়নও গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। ঘটনাটি নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
জানা গেছে, রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় একটি থিয়েটার স্কুল থেকে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন ঋদ্ধি ও তার বাবা। তারা একটি চলন্ত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে হঠাৎ এক ছিনতাইকারী তাদের লক্ষ্য করে ব্যাগ টান দেওয়ার চেষ্টা করে। আকস্মিক এই আক্রমণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং অটোরিকশাটি উল্টে যায়।
এই দুর্ঘটনায় শিশুশিল্পী ঋদ্ধি ও তার বাবা দুজনেই আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজধানীর ঢাকা ডেন্টাল কলেজে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ঋদ্ধির দাঁতে আঘাত লেগেছে, যা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসা দিচ্ছেন। অন্যদিকে তার বাবা মনজুর মোরশেদ নয়নের পায়ে গুরুতর ব্যথা রয়েছে। যদিও তাদের অবস্থা স্থিতিশীল, তবুও চিকিৎসকরা আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে ঋদ্ধির মা, সাংবাদিক রিফাত আনোয়ার জানান, থিয়েটার স্কুল থেকে ফেরার সময় তারা হঠাৎ করেই ছিনতাইকারীর মুখোমুখি হন। সবকিছু এত দ্রুত ঘটেছে যে প্রতিরোধ করার সুযোগই পাননি। ব্যাগ টান দেওয়ার চেষ্টা থেকেই মূলত দুর্ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। তার ভাষায়, এটি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ও ভয়াবহ একটি অভিজ্ঞতা।
এই ঘটনার পর রাজধানীতে ছিনতাই ও পথেঘাটে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চলাচলের সময় এমন ঝুঁকি নগরবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ ধরনের অপরাধ দমনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠছে।
উল্লেখ্য, মুগ্ধতা মোরশেদ ঋদ্ধি দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের এক পরিচিত মুখ। ‘গণ্ডি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি ২০২০ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। অল্প বয়সেই তার অভিনয় দক্ষতা দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এই দুর্ঘটনার পর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে ঋদ্ধির দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকেই তার জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সব মিলিয়ে, একটি প্রতিভাবান শিশুশিল্পী ও তার পরিবারের ওপর ঘটে যাওয়া এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং নগর জীবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।