লিচু চাষে সমৃদ্ধ তারাবুনিয়া, বাজারে যাচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

লিচু চাষে সমৃদ্ধ তারাবুনিয়া, বাজারে যাচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 27, 2026 ইং
লিচু চাষে সমৃদ্ধ তারাবুনিয়া, বাজারে যাচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে ছবির ক্যাপশন: পিরোজপুরের তারাবুনিয়া গ্রামে লাল টসটসে লিচুতে ভরে উঠেছে বাগান, ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা

পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার তালতলা নদীর তীরঘেঁষা তারাবুনিয়া গ্রাম এখন পুরো অঞ্চলে পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘লিচু গ্রাম’ নামে। গ্রামের প্রবেশদ্বার থেকেই চোখে পড়ে গাছভর্তি টসটসে লাল লিচুর দৃশ্য। বাগানজুড়ে নারী-পুরুষের ব্যস্ততা, কোথাও চলছে লিচু সংগ্রহ, কোথাও বাছাই—সব মিলিয়ে পুরো এলাকা এখন মৌসুমী উৎসবের আমেজে ভরপুর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই যুগ ধরে এই গ্রামে লিচু চাষ হয়ে আসছে। বর্তমানে গ্রামের শতাধিক পরিবার কোনো না কোনোভাবে এই চাষের সঙ্গে যুক্ত। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে গাছে আশানুরূপ ফলন হয়েছে। বিষমুক্ত বা অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষ হওয়ায় তারাবুনিয়ার লিচুর চাহিদা স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্থানীয় চাষিরা জানান, এখানকার লিচু ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, গোপালগঞ্জসহ অন্তত ২০ থেকে ২৫টি উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিনই পিরোজপুর শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে অনেক মানুষ পরিবার নিয়ে বাগান দেখতে আসছেন এবং গাছ থেকে নিজ হাতে লিচু সংগ্রহ করে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

বাগান মালিক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার লিচুর ফলন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরের জেলাগুলোতেও লিচু পাঠানো হচ্ছে। তারাবুনিয়ার সাফল্য দেখে আশপাশের গ্রামের কৃষকরাও এখন লিচু চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নাজিরপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক লিচুবাগান রয়েছে। অধিকাংশ চাষি দীর্ঘ ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে বিভিন্ন জাতের লিচু চাষ করে আসছেন। তবে এবারের মতো এত ভালো ফলন আগে কখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারাবুনিয়ায় লিচুচাষের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত হিমাংশু কুমার মিস্ত্রী। তিনি জানান, বিভিন্ন কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রথমে এক একর জমিতে লিচু বাগান শুরু করেন। চার বছর পর গাছে ফল আসতে শুরু করে। পরে লাভের টাকা দিয়ে জমি বাড়িয়ে বর্তমানে তিনি পাঁচ একরে মুজাফফরী ও বোম্বাই জাতের লিচু চাষ করছেন।

তিনি বলেন, “এখন এই চাষ থেকে ভালো আয় হচ্ছে। ধীরে ধীরে আমরা জমি বাড়িয়েছি।”

একই গ্রামের চাষি পরিমল বিশ্বাস জানান, তার পাঁচ একরের বাগান থেকে এবার খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রতিবছর লিচু বিক্রির টাকা দিয়ে কিছু না কিছু জমি কিনছি। গত ১৩–১৪ বছরে কখনো লোকসান হয়নি।”

আরেক চাষি হারুনুর রশীদ জানান, তার এক একরের বাগান থেকে এবার দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। কমলেশ মল্লিক জানান, তিনি এক হাজার লিচু ৩৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন এবং এবার প্রায় সব চাষিই লাভবান হবেন।

গ্রামটির বাগানগুলোতে দেখা যায়, একই জমিতে লিচুর পাশাপাশি আম, বরই ও মালটার চাষও করা হচ্ছে। ফলে বছরের প্রায় পুরো সময়ই কোনো না কোনো ফল উৎপাদন ও বিক্রির সুযোগ থাকছে, যা কৃষকদের জন্য স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরি করেছে।

নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইশরাতুন্নেছা এশা বলেন, তারাবুনিয়ার চাষিরা শুধু জেলার নয়, বরিশাল বিভাগের সফল ও মডেল কৃষক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। উৎপাদিত উন্নত জাতের লিচু দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরিদর্শন, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ফলচাষ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এ অঞ্চলের কৃষকেরা আরও বেশি আগ্রহী হয়ে ফলজ বাগান গড়ে তুলছেন। তারাবুনিয়ার এই সফলতা এখন স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দিয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ৪১ দফা নির্বাচনি ই

২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ৪১ দফা নির্বাচনি ই