সরকারি পে স্কেল শতভাগ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক। তিনি বলেন, কর্মচারীদের মধ্যে বর্তমানে ব্যাপক অনিশ্চয়তা ও হতাশা কাজ করছে, কারণ নতুন বেতন কাঠামো আদৌ কত শতাংশ বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।
একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পে স্কেল নিয়ে আলোচনা চললেও সরকারের কোনো দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এতে কর্মচারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বাজেটের আগে এ বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান নেওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
আবদুল মালেক আরও বলেন, তারা দীর্ঘ ১১ বছর পর পে স্কেলকে কোনো ধাপে ভাগ না করে একবারেই বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন। তার মতে, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হলে বাজারে মূল্যস্ফীতি ও অস্থিরতা বাড়ার সুযোগ থাকে, যা কর্মচারীদের জন্য ক্ষতিকর।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো একসঙ্গে না করে তিনটি অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী জুলাই থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেসিক বেতনের অর্ধেক অংশ পেতে পারেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি অংশ কার্যকর করা হবে এবং পরে বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা ধাপে ধাপে যুক্ত হবে।
এছাড়া আসন্ন বাজেটে প্রায় ৩০ থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী বাজেট অধিবেশনের পর পে স্কেল সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে।
নবম জাতীয় পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি পেনশন কাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট শ্রেণির পেনশনভোগীদের জন্য উল্লেখযোগ্য হারে ভাতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে পে স্কেল ইস্যুতে সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা ও সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে এখনো একটি বড় ব্যবধান রয়ে গেছে, যা আসন্ন বাজেটের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক