ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ বর্তমানে দুবাইয়ে নয়, ভারতের ভেতরেই অবস্থান করছেন—এমন তথ্য দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ডিবি প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফয়সাল করিমের দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি নিজেকে দুবাইয়ে অবস্থানরত দাবি করেন। এসব ভিডিও বাস্তব নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি—তা নিয়েও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, ভিডিও বার্তাগুলো আসল হলেও ফয়সালের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সঠিক নয়। তদন্তে পাওয়া গেছে, তিনি বর্তমানে ভারতের ভেতরে আত্মগোপনে রয়েছেন।
হাদি হত্যা মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে ডিবি প্রধান জানান, এ পর্যন্ত ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পাঁচজন এখনো পলাতক।
পলাতক আসামিরা হলেন—হাদিকে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ, মোটরসাইকেলচালক আলমগীর শেখ, পালাতে সহায়তাকারী মানবপাচারকারী ফিলিফ স্নাল, হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে চিহ্নিত তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী এবং ফয়সালের বোন জেসমিন।
ডিবি প্রধান আরও জানান, তদন্তে উঠে এসেছে—এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা পল্লবীর সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী। ভবিষ্যতে তদন্তে নতুন কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে তিনি সিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।