তৃণমূল পর্যায়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো গেলে দেশের ফুটবলের মান আরও উন্নত হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, তৃণমূল থেকেই ফুটবলের ভবিষ্যৎ তৈরি হবে এবং সঠিক সুযোগ-সুবিধা পেলে শিশুরাই একদিন দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে যশোরের হামিদপুরে শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমিতে আয়োজিত ‘এএফসি গ্রাসরুট ফুটবল ডে ও ওয়ার্ল্ড ফুটবল ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে পুরো একাডেমি চত্বর প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শিশু ও কিশোর ফুটবলারদের অংশগ্রহণে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ফুটবলের মতো খেলা উন্নয়নে শুধু জাতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়, বরং তৃণমূল পর্যায় থেকেই খেলোয়াড় গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, শিশুদের সঠিক প্রশিক্ষণ, পরিচর্যা এবং নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে তারাই দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য বয়ে আনতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে যদি আরও বেশি ক্রীড়াবান্ধব মানুষ ও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসত, তাহলে বাংলাদেশ অনেক আগেই ফুটবল বিশ্বকাপের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারত। তার মতে, খেলাধুলার বিকাশে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) উদ্যোগে ফিফা ও এএফসির নির্দেশনায় দেশের পাঁচটি ভেন্যুর মধ্যে যশোরে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে অসংখ্য বালক ও বালিকা ফুটবলার অংশ নেয়। তাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো একাডেমির মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাফুফের সহ-সভাপতি ও শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো চার্লোস এবং পাকিস্তানের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাটাচি জায়ান আজিজ।
স্বাগত বক্তব্যে নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বলেন, এই ধরনের আয়োজন তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই একাডেমি থেকেই ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি হবে।
আয়োজকরা জানান, গ্রাসরুট পর্যায়ে ফুটবল উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা এবং তাদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিতভাবে চালিয়ে গেলে দেশের ফুটবলের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা মনে করেন।
সব মিলিয়ে যশোরের এই আয়োজন শুধু একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠান নয়, বরং বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দিকনির্দেশনামূলক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক