ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে আহত হয়েছেন—এমন গুঞ্জনের মধ্যে তাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ বলে দাবি করা হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্টের ছেলে ইউসুফ পেজেশকিয়ান।
বুধবার (১১ মার্চ) নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বার্তায় ইউসুফ পেজেশকিয়ান বলেন, তিনি মোজতবা খামেনির আহত হওয়ার বিষয়ে গুঞ্জন শুনেছিলেন।
এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে তিনি কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তিনি জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন।
বার্তায় তিনি লিখেছেন, তিনি শুনেছিলেন যে মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। পরে পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন যে আলহামদুলিল্লাহ, তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।
এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন মোজতবা খামেনিকে ‘রমজান যুদ্ধের আহত প্রবীণ যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। তবে তার আঘাতের ধরন বা অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মোজতবা খামেনি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দীর্ঘদিনের শাসক আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি সাধারণত জনসমক্ষে খুব কমই দেখা দেন। তিনি সরকারি অনুষ্ঠানেও খুব সীমিত উপস্থিতি রাখেন এবং খুব কমই বক্তব্য দেন।
তাকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করার পরও তিনি এখন পর্যন্ত জাতির উদ্দেশে কোনো আনুষ্ঠানিক ভাষণ দেননি বা লিখিত বিবৃতিও প্রকাশ করেননি।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।
বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমস তিনজন অজ্ঞাতনামা ইরানি কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, মোজতবা খামেনি কিছুটা আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তার পায়ে আঘাত লেগেছে। তবে তিনি সচেতন অবস্থায় আছেন এবং বর্তমানে অত্যন্ত নিরাপদ একটি স্থানে সীমিত যোগাযোগের মধ্যে অবস্থান করছেন।
মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সামনে আসায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে গুরুতর আহত হওয়ার কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কসমিক ডেস্ক