পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে রদবদল শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সে লক্ষ্যেই পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, পুলিশের ভাবমূর্তি পুনর্গঠন এবং পেশাদারিত্ব বাড়াতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কিছু পরিবর্তন তো আসবেই। পুলিশকে জনগণের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। অতীতের যেসব বিষয় নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সেগুলো দূর করতে আমরা কাজ করছি।” তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রশাসনিক দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পুলিশের বিভিন্ন স্তরে সংস্কারমূলক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা ছাড়া টেকসই আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সে কারণেই সরকার পুলিশ প্রশাসনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বাড়াতে গুরুত্ব দিচ্ছে। রদবদলের মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্বে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করবেন। ওই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার চূড়ান্ত করা হবে।
তিনি জানান, একই অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত সময়মতো সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নেওয়া হবে।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো সংসদের প্রথম অধিবেশনেই চূড়ান্ত হবে। সংসদ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া রাজধানীর আদাবর এলাকায় শনিবার রাতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদলের ঘোষণা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে একটি বার্তা দিচ্ছে—দক্ষতা, জবাবদিহি ও জনআস্থা এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এই পরিবর্তন বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ ও বাস্তবায়নের ওপর।
সব মিলিয়ে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট যে পুলিশ প্রশাসনে সংস্কার ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা—এই উদ্যোগের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনী আরও পেশাদার, মানবিক ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।