জমি নিয়ে বিরোধে বগুড়ায় জামায়াত নেতার হত্যা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জমি নিয়ে বিরোধে বগুড়ায় জামায়াত নেতার হত্যা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 2, 2026 ইং
জমি নিয়ে বিরোধে বগুড়ায় জামায়াত নেতার হত্যা ছবির ক্যাপশন:

বগুড়ার ঠনঠনিয়া এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে জামায়াত নেতা হাফেজ মাওলানা সাইফুল ইসলামকে (৪১) ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১ মার্চ সকালে, যখন সাইফুল ইসলাম তার ক্রয়কৃত জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছিলেন। এসময় প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে প্রধান আসামি ইয়ার মোহাম্মদ তার কোমর থেকে একটি চাকু বের করে সাইফুলের তলপেটে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সাইফুল ইসলামের অবস্থা আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাতেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের দুলাভাই মো. আলী আজম বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আরও এক নারীসহ কয়েকজন সহযোগী জড়িত ছিলেন।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) র‍্যাব-১২ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রধান আসামি ও একজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— মামলার ১ নম্বর আসামি ইয়ার মোহাম্মদ ওরফে বিক্রম (৩২) এবং ৩ নম্বর আসামি মোছা. বেবী খাতুন (৫২)। তারা দুজনই শহরের ঠনঠনিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

র‍্যাব-১২-এর কম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। সোমবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মোহনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ইয়ার মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

একই দিন ভোরে শহরের ঠনঠনিয়া এলাকা থেকে মামলার ৩ নম্বর আসামি বেবী খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া দুজনকে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও সহায়তাকারীদের তথ্য মিলিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। র‍্যাব জানিয়েছে, যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা আশা করছেন, দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘটতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা এলাকার সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে। স্থানীয় প্রশাসন বলেছে, নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, সাইফুল ইসলাম সবসময় শান্তিপ্রিয় মানুষ ছিলেন এবং স্থানীয় সমাজে সক্রিয়ভাবে ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকা শোকের ছায়ায় ডুবে গেছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, জমি বিরোধ থেকে উত্তেজনা কমাতে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা প্রয়োজন। র‍্যাবের দ্রুত পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার কার্যক্রমকে স্থানীয়রা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

সাইফুল ইসলামের মৃত্যু এবং গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির ঘটনায় এখনো মামলা চলমান। আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, র‍্যাব এবং পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
স্কুলব্যাগে লুকানো ছিল রিমোট কন্ট্রোল বোমা, ফরিদপুরে বড় বিপদ

স্কুলব্যাগে লুকানো ছিল রিমোট কন্ট্রোল বোমা, ফরিদপুরে বড় বিপদ