পাঁচবিবিতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নামফলক পরিবর্তন, বিতর্ক তুঙ্গে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পাঁচবিবিতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নামফলক পরিবর্তন, বিতর্ক তুঙ্গে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 23, 2026 ইং
পাঁচবিবিতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নামফলক পরিবর্তন, বিতর্ক তুঙ্গে ছবির ক্যাপশন:

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় চরম অবহেলার চিত্র সামনে এসেছে। পাঁচবিবি পৌরসভা ভবনে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও সংরক্ষণশালার নামফলক থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। শুধু নামফলক পরিবর্তনই নয়, জাদুঘরের একটি কক্ষ বর্তমানে ময়লা রাখার স্থান বা ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও জানা গেছে। এই ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৮ এপ্রিল পাঁচবিবি পৌরসভা ভবনের তৃতীয় তলায় ‘পাঁচবিবি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও সংরক্ষণশালা’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন সরঞ্জাম, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন এবং দুর্লভ বইয়ের সংগ্রহ নিয়ে জাদুঘরটি যাত্রা শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি শিক্ষার্থী, গবেষক ও ইতিহাস অনুরাগীদের কাছে আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়।

তবে সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জাদুঘরের মূল নামফলক থেকে কৌশলে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি মুছে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে শুধু ‘পাঁচবিবি জাদুঘর সংরক্ষণশালা’ লেখা রয়েছে। জাদুঘরের ভেতরে রাখা মুক্তিযুদ্ধের স্মারকগুলোর ওপর জমে আছে ধুলোর আস্তরণ। কক্ষটির এক পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে পৌরসভার অব্যবহৃত জিনিসপত্র, যা জাদুঘরের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এ ঘটনায় পাঁচবিবি উপজেলার আয়মারাসুলপুর ইউনিয়নের আগইর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জাল হোসেনসহ একাধিক মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, স্বাধীনতার ইতিহাস মুছে ফেলার এই ধরনের দুঃসাহস কোনো সাধারণ অবহেলা নয়। তারা দাবি করেন, স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির ইন্ধন ছাড়া এমন ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তা আক্তার বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি ইতিহাস নয়, এটি জাতির আত্মপরিচয়ের অংশ। এই ইতিহাসের সঙ্গে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে জাদুঘরের গুরুত্ব অপরিসীম।

পাঁচবিবি উপজেলার মালিদহ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক মণ্ডলের ছেলে মনিরুজ্জামান মনির বলেন, এটি মুক্তিযুদ্ধকে ব্যঙ্গ ও খাটো করার একটি চক্রান্ত। যারা জাতির গৌরবের ইতিহাস মুছে ফেলতে চায়, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

পাঁচবিবি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রউফ বুলু বলেন, এটি একটি ন্যক্কারজনক ও ঘৃণিত কাজ। কে বা কারা এই নাম পরিবর্তন করেছে এবং কার ইন্ধনে এটি হয়েছে—তা দ্রুত তদন্ত করে বের করতে হবে। একই সুরে জয়পুরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জহুরুল আলম তরফদার রুকু বলেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নামফলক থেকে শব্দ মুছে ফেলা নিন্দনীয় অপরাধ। তার মতে, যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অস্বীকার করতে চায়, তারাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পাঁচবিবি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা জোবাইদুল হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি মুছে ফেলা এবং সেখানে ডাস্টবিন রাখার ঘটনা অত্যন্ত অনুচিত। তিনি আশ্বাস দেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই নামফলকটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।

এ বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম হোসেন জানান, জাদুঘরটি দীর্ঘদিন সঠিক ব্যবস্থাপনায় ছিল না। তিনি বলেন, এটি সংস্কার করে সুন্দর পরিবেশে নতুনভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের এই অবহেলা শুধু একটি স্থাপনার নয়, বরং জাতির ইতিহাস ও চেতনার প্রতিও অবমাননা—এমনটাই মনে করছেন মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়রা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রংপুর-৪ আসনে ভোটে পরাজিত এমদাদুল হক ডিসিকে অভিশাপ

রংপুর-৪ আসনে ভোটে পরাজিত এমদাদুল হক ডিসিকে অভিশাপ