সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র সিআরপি কর্তৃপক্ষ। আজ রবিবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আওতাধীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত সিআরপি প্রতিনিধিরা প্রতিষ্ঠানের চলমান পুনর্বাসন কার্যক্রম, চিকিৎসা সেবা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তারা জানান, পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে সিআরপি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন আধুনিক সেবা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয় দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, পুনর্বাসন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং সেবার গুণগত মান বৃদ্ধির বিষয়েও। সিআরপি কর্মকর্তারা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে সরকারি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ সময় সিআরপি’র প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ড. ভ্যালেরি এ. টেইলর, নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন, ট্রাস্টি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাইদুর রহমান, ট্রাস্টি মুশতাক আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রকল্প, চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বৈঠকে তারেক রহমান-এর নামও উল্লেখ করা হয়। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
সাক্ষাতে আরও বলা হয়, সিআরপি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক প্রতিবন্ধী ও দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জন্য চিকিৎসা, ফিজিওথেরাপি, পুনর্বাসন প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা রোগীরা এখানে উন্নত সেবা পাচ্ছেন, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে সহায়তা করছে।
সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে এই ধরনের পুনর্বাসন সেবা আরও বিস্তৃত করা গেলে দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান আরও উন্নত হবে বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর পুনর্বাসন সেবা চালু করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সিআরপি কর্মকর্তারা জানান, তাদের লক্ষ্য হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শুধু চিকিৎসা দেওয়া নয়, বরং তাদের স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা। এজন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান সহায়তা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং পুনর্বাসন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
কসমিক ডেস্ক