খুলনার মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়া খুঁটির ঘাট এলাকার একটি মাছের ঘের থেকে রাব্বি (৩২) নামের এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ মে) দুপুর সোয়া ১টার দিকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত রাব্বি খুলনার খানজাহান আলী থানার জাব্দিপুর এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তার মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় আতঙ্ক ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাছের ঘেরে কর্মরত শ্রমিকরা প্রথমে পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে হতবাক হয়ে পড়েন। পরে তারা দ্রুত বিষয়টি দৌলতপুর থানায় জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বুকে দুটি গুলির দাগ এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এতে ঘটনাটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয়দের দাবি, রাব্বি মাদক কারবার সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে।
পুলিশের ধারণা, বৃহস্পতিবার (২১ মে) গভীর রাতের কোনো এক সময়ে তাকে হত্যা করে মরদেহ ওই মাছের ঘেরে ফেলে রাখা হয়। তবে কীভাবে তিনি সেখানে পৌঁছালেন এবং কারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
দৌলতপুর থানার এসআই ইশতিয়াক জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, “মৃত ব্যক্তির শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে এবং মাথায় আঘাতের দাগও দেখা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড তাদের এলাকায় আগে খুব একটা ঘটেনি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতের পরিচিতজন, আশপাশের লোকজন এবং সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এছাড়া, হত্যার পেছনে কোনো পূর্বশত্রুতা বা অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে।
এই ঘটনার পর খুলনা অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কসমিক ডেস্ক