শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে জটিলতা যেন না হয়—শ্রমমন্ত্রীর নির্দেশ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে জটিলতা যেন না হয়—শ্রমমন্ত্রীর নির্দেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 14, 2026 ইং
শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে জটিলতা যেন না হয়—শ্রমমন্ত্রীর নির্দেশ ছবির ক্যাপশন:

আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটির আগে দেশের সকল শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর বেইলি রোডে তার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন।

শিল্পখাতে সম্ভাব্য শ্রম অসন্তোষ প্রতিরোধ এবং শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় তৈরি পোশাক (আরএমজি) এবং নন-আরএমজি খাতের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় এবং সম্ভাব্য সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন করণীয় নির্ধারণ করা হয়।

সভায় শ্রমমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো অবস্থাতেই শ্রমিকদের বেতন বা বোনাস নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়া উচিত নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সতর্ক করে জানান, ঈদের আগেই শ্রমিকদের প্রাপ্য সব পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।

এ লক্ষ্যে সভায় বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করা। এই তালিকা সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যদের কাছে পাঠানো হবে।

সংসদ সদস্যরা সরাসরি কারখানার মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করতে কাজ করবেন বলে সভায় জানানো হয়।

সভায় ব্যাংকিং খাতের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইউসিবিএল, ট্রাস্ট ব্যাংক এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকসহ কিছু ব্যাংক ঋণ প্রদানে দেরি করছে। এ বিষয়ে শ্রমমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।

শিল্পখাতে অস্থিরতা সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে মন্ত্রী সতর্কবার্তাও দেন। তিনি বলেন, কিছু শ্রমিক নেতা অহেতুক উসকানি দিয়ে শিল্পখাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এসব কর্মকাণ্ডের ওপর স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের সতর্ক নজর রাখতে হবে।

একই সঙ্গে পলাতক বা দায়িত্বহীন মালিকদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই তালিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সভায় আলোচনা করা হয়।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিনও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী বন্ধ হয়ে থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে এসব কারখানা চালুর বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

সভায় তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান শিল্পখাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামে চালু থাকা মোট ২১২৭টি কারখানার মধ্যে প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানা ইতোমধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে।

এছাড়া প্রায় ৭২ শতাংশের বেশি কারখানা শ্রমিকদের ঈদ বোনাসও পরিশোধ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ বাধ্যতামূলক না হলেও কিছু মহল এই বিষয়টি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে।

একইভাবে বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও জানান, অধিকাংশ কারখানাই ইতোমধ্যে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ করেছে। ফলে বড় ধরনের শ্রম অসন্তোষের আশঙ্কা নেই বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য একটি ‘আপদকালীন তহবিল’ গঠনের প্রস্তাব দেন।

সভায় ঢাকা-১৯, ঢাকা-২০ এবং গাজীপুর জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে শ্রমমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় মন্ত্রণালয় সব সময় সচেষ্ট থাকবে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সরকার, মালিকপক্ষ এবং প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।a


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মাদকের টাকা জোগাড়ে বন্ধু হত্যা: গোপালগঞ্জে কলেজছাত্রের মরদেহ

মাদকের টাকা জোগাড়ে বন্ধু হত্যা: গোপালগঞ্জে কলেজছাত্রের মরদেহ