উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার দেশের নারীদের প্রশংসা করেছেন, যারা শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও দৃঢ়চেতা এবং দেশের বিপ্লবের মজবুত স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছেন। সোমবার (৯ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ খবর নিশ্চিত করেছে।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে পিয়ংইয়ংয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কিম এই ভাষণ দেন। তিনি বলেন, “আমাদের সমসাময়িক নারীরা বিপ্লবের মজবুত স্তম্ভ হয়ে উঠেছেন। শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও তারা নিঃসন্দেহে দৃঢ়চেতা। তাদের সাদামাটা মুখে সাহসের ছাপ স্পষ্ট, আর মুখের বলিরেখায় ফুটে ওঠে অক্লান্ত পরিশ্রমের গল্প।”
এই অনুষ্ঠানে কিমের স্ত্রী রি সল জু এবং কন্যা জু এ উপস্থিত ছিলেন। কেসিএনএ’র প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, কিমের কন্যা তার বাবার পাশে হাত ধরে বসেছেন। বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরে জুকে কিমের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন।
প্রেসিডেন্ট কিমের ভাষণে উত্তর কোরিয়ার নারীদের কঠোর পরিশ্রম এবং দেশের কাজে অবদান বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। সরকারি সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, উপস্থিত দর্শকরা কিমের বক্তব্যের প্রতি উষ্ণ সাড়া দিয়েছেন এবং বিপুল করতালির মাধ্যমে তার ভাষণকে স্বাগত জানিয়েছেন।
গতকালের অনুষ্ঠানে কিমের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিদেশি কূটনীতিকরাও উপস্থিত ছিলেন। ভাষণের পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, যা আন্তর্জাতিক নারী দিবসের তাৎপর্যকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
উত্তর কোরিয়ায় কিম পরিবার কয়েক দশক ধরে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। দেশটিতে এই পরিবারের ‘বংশীয় ঐতিহ্য’কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বলয় গড়ে উঠেছে, যা সরকারের কার্যক্রম এবং রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। নারীদের গুরুত্ব দেয়ার এই বার্তা দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোয় নারীর ভূমিকার উপর দৃষ্টিপাত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
সংক্ষেপে, কিম জং উনের এই বক্তব্যে নারীদের শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও তাদের দৃঢ়চেতা ও অপরিহার্য ভূমিকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠান এবং কেসিএনএ’র প্রকাশিত ছবি ও প্রতিবেদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি প্রশংসিত হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক