রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযানে মোট ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার গুলশান-২ এলাকায় পৃথক দুটি স্পা সেন্টারে এ অভিযান পরিচালনা করে গুলশান থানা পুলিশ। অভিযানের পরপরই প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে ২৮ জনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়ই রয়েছেন।
গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন মোর্শেদ আলম (৩৩), কায়কোবাদ সরকার (২৫), রমজান ভুঁইয়া (৪৫), মেহেদী হাসান (২৭), তারভীর আলম (২২), মাহফুজ কামাল স্বাধীন (৩২), মনিরুল ইসলাম মুন্না (২৬), মো. হাসান (৩৭), বাবুল হোসেন (৩৮), মো. মোস্তফা (৬০), পরিতোষ শীল (৩৭), মো. শোহান (২৫), রফিকুল ইসলাম রানা (৩৭), জহিরুল ইসলাম (৩৬), মো. আরিফুল ইসলাম (৪৩)সহ আরও অনেকে। নারী গ্রেফতারদের মধ্যেও বিভিন্ন বয়সী কয়েকজন রয়েছেন।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে গুলশান এলাকায় কিছু স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, সেখানে স্বাস্থ্যসেবা ও সৌন্দর্যচর্চার আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং সচেতন মহলের পক্ষ থেকেও একাধিকবার এ বিষয়ে অভিযোগ আসে।
তিনি বলেন, “স্পা ব্যবসার আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড, দেহব্যবসা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কিছু স্পা সেন্টার পরিচালনা করে আসছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অবৈধ কার্যক্রম চলছিল বলে গোয়েন্দা নজরদারিতে তথ্য পাওয়া যায়। এরপরই বৃহস্পতিবার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং স্পা সেন্টারগুলোর লাইসেন্স ও কার্যক্রমও যাচাই করা হবে। প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্ট কিছু নথিপত্রেও অনিয়ম পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এসব স্পা সেন্টার নিয়ে সন্দেহ ছিল। আবার অনেকে মনে করছেন, নিয়মিত তদারকি না থাকায় এমন কার্যক্রম বেড়ে উঠেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজধানীতে স্পা সেন্টারের আড়ালে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযোগ পেলে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পা ও ওয়েলনেস সেন্টারগুলোর জন্য স্পষ্ট নীতিমালা ও নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের অনিয়ম আবারও ঘটতে পারে। তাই প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
কসমিক ডেস্ক