রমজান মাসে রোজাদারকে ইফতার করানো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ আমল হিসেবে ঘোষণা করেছেন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অন্যকে ইফতার করালে মহান আল্লাহ নিজের পক্ষ থেকে দাতার জন্য সওয়াব প্রদান করেন, যা রোজাদারের নেকি থেকে এক বিন্দুমাত্র কমায় না। এটি বান্দার প্রতি আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহের প্রমাণ।
হজরত যায়েদ ইবনে জুহানি রা. বর্ণনা করেছেন, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করায়, তারও রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব হবে। আরেক হাদিসে বলা হয়েছে, যে রোজাদারকে পানিমিশ্রিত এক পেয়ালা দুধ, একটি খেজুর বা এক ঢোঁক পানি দিয়ে ইফতার করায়, তাতেও সে সমপরিমাণ সওয়াব পান।
রসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, যিনি রোজাদারকে তৃপ্তিসহকারে আহার করাবেন, মহান আল্লাহ তাকে হাউসে কাউসার থেকে এমন পানীয় পান করাবেন, যার ফলে সে জান্নাতে প্রবেশের পূর্ব পর্যন্ত কখনও তৃষ্ণার্ত হবে না।
ইফতারের জন্য কাউকে দাওয়াত করলে করণীয়ও আছে। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা আছে, যে ব্যক্তি গৃহবাসীকে ইফতারের জন্য আহবান করে, তার জন্যও সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে। আবু সাওয়ার আল-আদাওয়ি রহ. উল্লেখ করেছেন, বনি আদি গোত্রের মানুষরা কখনও একাকী ইফতার করত না; যদি কেউ সঙ্গী পেত, তাকে সঙ্গে নিয়ে ইফতার করত।
খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে আরও অনেক ইবাদত পালিত হয়। এটি সহমর্মিতা ও ভালোবাসা তৈরি করে, যা জান্নাতে প্রবেশের কারণ। যেমন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ঈমানদার ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না একে অপরকে ভালোবাসো।’
রমজান মাসে তাই দরিদ্র, অসহায়, পথশিশু ও পথিকদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ব্যয়বহুল বাহারি ইফতারের পরিবর্তে সহজ, পরিমিত ও সবাইকে উপকৃত করার ইফতারের আয়োজন করলে আল্লাহর নিকট অগাধ সওয়াব পাওয়া যায়।
রোজাদারকে ইফতার করানো শুধুমাত্র নেকি বৃদ্ধির উৎস নয়, এটি পাপ মোচন ও আত্মার purification-এর এক অমূল্য সুযোগ। তাই রমজানে ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলকে সচেতনভাবে ইফতার আয়োজন ও দান করা উচিত।
কসমিক ডেস্ক