কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নিজেদের মিত্র দেশগুলোর জন্য টোল বা মাশুল মওকুফ করেছে ইরান। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটকে কেন্দ্র করে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক কূটনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান কিছু নির্দিষ্ট দেশের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু করেছে, যার মাধ্যমে তাদের জাহাজগুলোকে প্রণালি পার হওয়ার সময় কোনো ধরনের টোল দিতে হবে না। এই সিদ্ধান্ত মূলত রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি জানিয়েছেন, কিছু নির্বাচিত দেশের জন্য এই বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এই নীতি কিভাবে পরিবর্তিত হবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কিছু বলেননি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে বন্ধুদেশগুলোর জন্য এই সুবিধা আরও সুসংগঠিত করার কাজ করছে।
রাষ্ট্রদূত স্পষ্টভাবে রাশিয়ার নাম উল্লেখ করে বলেন, রাশিয়া এই তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে অন্যান্য কোন কোন দেশ এই সুবিধার আওতায় আছে, তা তিনি বিস্তারিত জানাননি।
এর আগে মার্চের শেষ দিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দেন যে, কিছু দেশ ও জাহাজ মালিক নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তিনি তখন বলেছিলেন, যেসব দেশকে ইরান বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে বা বিশেষ কারণে অনুমোদন দেয়, তাদের জন্য সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করছে।
সে সময় সম্ভাব্য মিত্র দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতের নাম আলোচনায় আসে। তবে বর্তমানে এই দেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ইরানের মিত্র তালিকায় আছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং একটি বড় কৌশলগত বার্তা বহন করছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হওয়ায় এখানে যেকোনো পরিবর্তন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এমন সিদ্ধান্ত মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি পশ্চিমা শক্তিগুলোর সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান প্রকাশ করে।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এই ধরনের টোল মওকুফ নীতি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক শিপিং রুট এবং জ্বালানি বাজারে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও বাণিজ্য পরিবহন হয়ে থাকে।
সব মিলিয়ে, ইরানের এই পদক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কূটনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, কোন দেশগুলো এই সুবিধার আওতায় স্থায়ীভাবে থাকে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কেমন হয়।
কসমিক ডেস্ক