যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে এটি সম্পন্ন হতে আরও দু-এক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস-এর প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, লিমনের মরদেহ ইতোমধ্যে পুলিশ কর্তৃপক্ষ থেকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই হস্তান্তর প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট মিয়ামি-এর তত্ত্বাবধানে।
মিয়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে লিমনের পরিবারের সম্মতিও নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় বিধান অনুসারে মুসলিম রীতিতে তার মরদেহের পরবর্তী সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হতে এখনও কিছু সময় লাগবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পরিবহন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় সম্পন্ন করার পরই মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। লিমন ছিলেন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী এবং তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-তে ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।
একই দিনে আরেক বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিও নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে তার মরদেহের অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। রবিবার ফ্লোরিডার আই-২৭৫ ও ফোর্থ স্ট্রিট নর্থ সংলগ্ন একটি জলাশয় থেকে ওই অংশ পাওয়া যায়। এই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও শোক বিরাজ করছে।
ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে কাজ করছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে লিমনের পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় দাফনের অপেক্ষায় রয়েছেন। সরকারি ও কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে এই ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অনেকে। লিমনের মরদেহ দেশে ফেরার পর তার জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক