দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে—এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার ভেতরে অবস্থিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন তৈরির যে প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে সরে এসেছেন নীতিনির্ধারকরা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভবিষ্যৎ সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা, যানজট এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। সংসদ ভবন এলাকায় সংসদ অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দর্শনার্থীদের উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে—এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এর আগে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা এবং হেয়ার রোডের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোবাড়িকে সমন্বিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে যমুনা ঢাকার কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় এবং হেয়ার রোড থেকে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দূরত্ব বেশি হওয়ায় যাতায়াতে তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। একইভাবে মিন্টো রোডের দুটি বাংলো একত্র করার ভাবনাও আসে, সেখানেও যানজট বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব বিকল্প নিয়ে আলোচনা হলেও অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জানান, বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটিতে স্থাপত্য অধিদপ্তর, সংসদ সচিবালয় ও এসএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন। কমিটি একাধিক বৈঠক করে এবং সেপ্টেম্বর মাসে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন পরিদর্শনও করে।
কমিটির প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা যায়, ভবন দুটি সংস্কার করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন করা সম্ভব হলেও নিরাপত্তা, সংসদীয় কার্যক্রম এবং লুই আই কানের মূল নকশা লঙ্ঘনের বিষয়টি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পাশাপাশি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নতুন বাসভবন নির্ধারণ এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের বিষয়টিও জটিলতা সৃষ্টি করে।
সংসদ সচিবালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মতো সংবেদনশীল স্থাপনার জন্য ঢাকায় উপযুক্ত স্থান নির্বাচন অত্যন্ত কঠিন। সংসদ ভবন এলাকায় সংসদ অধিবেশন চলাকালে জনসমাগম বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন নির্মাণসংক্রান্ত কোনো প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত নেই। ফলে আপাতত নতুন কোনো বাসভবন নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছিল গণভবন। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর গণভবনে ব্যাপক ভাঙচুর হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।
সব মিলিয়ে, নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে—এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এখন পুরোপুরি আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের ওপরই নির্ভর করছে।
কসমিক ডেস্ক