সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার পর তাকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, তাকে সামনে রেখে একটি “নতুন আওয়ামী লীগ” বা বিকল্প রাজনৈতিক কাঠামো গঠনের চেষ্টা হতে পারে। তবে এসব আলোচনা ও সম্ভাবনার বিষয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি বলেন, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে মুক্তি দেওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। তার মতে, এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ দাবি করছে যে বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে একটি নতুন আওয়ামী লীগ গঠনের চেষ্টা চলছে। রনির ভাষায়, পুরোনো আওয়ামী লীগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে এবং তার জায়গায় একটি নতুন রাজনৈতিক ফ্রেম দাঁড় করানোর চেষ্টা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পরিকল্পনার পেছনে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কৌশল কাজ করছে বলে তিনি মনে করেন। তার মন্তব্য অনুযায়ী, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে সামনে রেখে একটি “রিফাইন্ড” বা নতুন ধরণের আওয়ামী লীগ গঠনের আলোচনা সামনে আনা হচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেন যে এই ধরনের রাজনৈতিক প্রকল্প সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
গোলাম মাওলা রনি তার বক্তব্যে অতীত রাজনৈতিক উদাহরণও টেনে আনেন। তিনি বলেন, এর আগে শেখ হাসিনার সময়েও বিকল্প রাজনৈতিক কাঠামো বা নতুন ধরণের বিএনপি গঠনের চেষ্টা হয়েছিল, যেমন “তৃণমূল বিএনপি” নিয়ে আলোচনা ছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি মনে করেন, কোনো বড় রাজনৈতিক দলের বিকল্প সংস্করণ তৈরি করা সহজ নয় এবং তা মাঠ পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা পায় না।
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান সময়ে যাদের নাম ব্যবহার করে “নতুন আওয়ামী লীগ” বা “রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ” তৈরির কথা বলা হচ্ছে, তাদের অনেকেই সরাসরি মাঠের রাজনীতিতে পরীক্ষিত নন। তাই জনগণের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন।
রনির ভাষায়, রাজনৈতিক বাস্তবতায় শুধু নাম বা পরিচিত মুখ দিয়ে নতুন দল বা বড় রাজনৈতিক কাঠামো দাঁড় করানো সম্ভব নয়। এর জন্য দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভিত্তি, জনসম্পৃক্ততা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। সেই জায়গা থেকে তিনি মনে করেন, শিরীন শারমিনকে কেন্দ্র করে যেসব রাজনৈতিক পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে, তা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে না।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুরুতেই নানা বিতর্ক ও প্রশ্নের জন্ম দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তা রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে ব্যর্থ হয়। তার মতে, “নতুন আওয়ামী লীগ” তৈরির যেকোনো চেষ্টা শুরুতেই ব্যর্থতার দিকে যাবে।
সব মিলিয়ে গোলাম মাওলা রনির মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের যে আলোচনা চলছে, তা তিনি বাস্তবসম্মত মনে করছেন না। বরং তিনি এটিকে একটি ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাযুক্ত রাজনৈতিক পরিকল্পনা হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে কার্যকর রূপ পাবে না।