‘আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার’— দাবি সোহেলের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

‘আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার’— দাবি সোহেলের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 1, 2026 ইং
‘আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার’— দাবি সোহেলের ছবির ক্যাপশন: ‘আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার’— দাবি সোহেলের

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নতুন বিচারিক অগ্রগতি ঘটেছে। বহুল আলোচিত এই মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানি শুরু হয়েছে।

সোমবার সকালে তাদের কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ১১টার পর তাদের ঢাকার বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলাটির চার্জগঠন শুনানি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়, যা বিচার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত।

এই মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে, যা শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা সংক্রান্ত মামলার বিচার করে। Dhaka Metropolitan Children Violence Prevention Tribunal এই আদালতেই মামলাটির পরবর্তী শুনানি ও বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তদন্ত শেষে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তদন্ত সূত্রে জানা গেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা গত ২৪ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলাটি দ্রুত বিচার কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর আদালত চার্জগঠনের শুনানির জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। রামিসা আক্তার বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে কৌশলে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে তার পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির পর ঘটনাস্থলে গিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখতে পান।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে। ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে উভয় আসামির জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আদালতে নিয়োজিত পাবলিক প্রসিকিউটর জানান, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর নির্ভর করবে।

আইনজীবীরা মনে করছেন, মামলাটি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে, কারণ চার্জগঠনের পর মূল বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণ, জেরা এবং যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার দিকে অগ্রসর হবে আদালত।

এদিকে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের সংবেদনশীল মামলায় বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি শুধু একটি ফৌজদারি মামলা নয়, বরং শিশু সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত।

মামলাটির পরবর্তী শুনানিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হবে এবং এর মধ্য দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
জ্বালানি সংকটে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, উপকৃত ১২০০ কৃষক

জ্বালানি সংকটে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, উপকৃত ১২০০ কৃষক