রাত নামলেই নিভে যায় চুলা: সাঁথিয়া–বেড়ায় গ্যাস সংকটে দুর্ভোগ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রাত নামলেই নিভে যায় চুলা: সাঁথিয়া–বেড়ায় গ্যাস সংকটে দুর্ভোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 11, 2026 ইং
রাত নামলেই নিভে যায় চুলা: সাঁথিয়া–বেড়ায় গ্যাস সংকটে দুর্ভোগ ছবির ক্যাপশন:
ad728

পাবনার সাঁথিয়া ও পার্শ্ববর্তী বেড়া পৌর এলাকায় রাত ৯টা বাজলেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে গ্যাস সরবরাহ। ভোর ৬টার আগে চুলায় আগুন জ্বলে না। পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস সরবরাহ কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) আওতাধীন এসব এলাকায় প্রায় পাঁচ মাস ধরে এমন পরিস্থিতি চলছে, যা গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনে গ্যাসের সরবরাহ তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই চাপ কমতে শুরু করে। রাত ৯টার পর গ্যাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রান্নাবান্না, খাবার গরম করা এবং অন্যান্য গৃহস্থালি কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শত শত পরিবার নিয়মিত এই দুর্ভোগের মুখে পড়ছে।

গ্যাস–সুবিধাভোগী অনেক গ্রাহক বলেন, চার থেকে পাঁচ মাস ধরে এই সমস্যার কোনো উন্নতি হয়নি। রাতে রান্না করা না যাওয়ায় অনেককে আগেভাগে খাবার প্রস্তুত করতে হচ্ছে। শীতের সময়ে সেই খাবার ঠান্ডা হয়ে যায় এবং গ্যাস না থাকায় তা গরম করাও সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ কাঠ, কয়লা কিংবা এলপি গ্যাস ব্যবহার করছেন, যা খরচ বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকিও তৈরি করছে।

এই সংকট শুধু আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাণিজ্যিক সংযোগ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান ও খাবার তৈরির দোকানগুলো রাতের বেলায় গ্যাস না থাকায় অনেক সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কেউ কেউ সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার শুরু করলেও বাড়তি দামের কারণে লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

পিজিসিএলের বাঘাবাড়ি রিজিওনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সাঁথিয়া পৌর এলাকায় ৬১৭ জন আবাসিক ও আটজন বাণিজ্যিক গ্রাহক এবং বেড়া পৌর এলাকায় এক হাজার ৩৫০ জন আবাসিক ও দুজন বাণিজ্যিক গ্রাহক পাইপলাইনের গ্যাস সুবিধার আওতায় রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও সাঁথিয়া পৌর এলাকায় নিয়মিত রাতের বেলায় গ্যাস বন্ধ রাখা হচ্ছে, যার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা তাঁরা পাচ্ছেন না। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার কার্যকর সমাধান দেখা যাচ্ছে না।

সাঁথিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা মাসুদা খাতুন বলেন, দিনে মোটামুটি রান্না করা গেলেও সন্ধ্যার পর থেকেই গ্যাসের চাপ কমে যায়। রাত ৯টার পর চুলা একেবারে নিভে যায়। আরেক গৃহিণী রাহেলা খাতুন বলেন, নিয়মিত বিল পরিশোধ করা হলেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, যা আগে কখনো হয়নি।

শালঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, সাময়িক ব্যবস্থার পরিবর্তে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। না হলে গ্রাহকদের এভাবে বারবার ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

এ বিষয়ে পিজিসিএলের বাঘাবাড়ি রিজিওনাল অফিসের ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, বর্তমানে দেশে সামগ্রিকভাবে গ্যাস সংকট চলছে। গ্যাসের অপচয় রোধের লক্ষ্যে প্রায় তিন মাস ধরে রাতে সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। তিনি জানান, কিছু গ্রাহক একটি চুলায় একাধিক পরিবারের রান্না করেন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ভাজাভাজির কাজে অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার করেন। এসব বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মাইকিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে গ্রাহকদের দাবি, গ্যাস অপচয় রোধের পাশাপাশি নিয়মিত ও ন্যায্য সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট দ্রুত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৮ সাংবাদিকের যাবজ্জীবন, সমালোচনায় সিপিজে

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৮ সাংবাদিকের যাবজ্জীবন, সমালোচনায় সিপিজে