দেশের স্বর্ণবাজারে দীর্ঘদিন ধরেই দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সপ্তাহের কোনো একদিন সামান্য কমলেও বাকি দিনগুলোতে দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আরও এক দফা মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে সোনা, যার ফলে দেশের বাজারে এই ধাতুর দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, প্রতি ভরি সোনার দামে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৭৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি আনা হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের দাম দুই লাখ ২৯ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশের স্বর্ণবাজারে নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন এই মূল্য সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে।
রোববার, ২৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশীয় বাজারে এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে সংগঠনটি।
নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হবে দুই লাখ ১৮ হাজার ৯৯২ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৮৭ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম রাখা হয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার ৫৩১ টাকা।
অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। আগের মতোই ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা রয়েছে। একইভাবে ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৭৩২ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
স্বর্ণের এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধির ওপর নির্ভর করেই আগামী দিনে স্বর্ণের দামে আরও পরিবর্তন আসতে পারে।
কসমিক ডেস্ক