আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করছে। ‘দেশ যাবে নতুন পথে, ফিরবে না আর ফ্যাসিবাদে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজধানীর ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে বিকেলে বিশাল ইফতার মাহফিল ও মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করা এই তরুণ রাজনৈতিক দল মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দেশের রাজনীতিতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের উদ্যোগেই এনসিপি গঠিত হয়। গঠনের পর থেকে দলটি রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে রাজপথ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে এনসিপি ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ ছয় তরুণ নেতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, ফলে তারা আইনসভায় দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানিয়েছেন, এ আয়োজন শুধুই আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের মিলনমেলার রূপ নিয়েছে। ইফতার মাহফিলে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, শিক্ষক, সাংবাদিক, শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন।
বিকেল চারটা থেকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে গত এক বছরের রাজনৈতিক পথচলার উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত তুলে ধরার জন্য বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনী এবং ‘স্ট্রিট ওয়াল’ প্রোমো প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে দর্শকরা দলের কার্যক্রম, ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে এনসিপির ভূমিকা দেখতে পাবেন।
এছাড়া, রাজধানীর বাইরে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দলটি। আগামী ২ মার্চ চট্টগ্রাম, ৪ মার্চ সিলেট, ৫ মার্চ ময়মনসিংহসহ পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় শহরগুলোতে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ৩ মার্চ কুমিল্লায় বিশেষ ইফতার আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় নেতাকর্মী ও শহীদ পরিবারের মধ্যে সংযোগ জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু একটি দলের জন্মদিন নয়, এটি দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তরুণ নেতাদের নেতৃত্বে সংগঠনটি নাগরিক সচেতনতা, ভোটাধিকার ও ন্যায়ের জন্য রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছে।
দলের কর্মকর্তা ও নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে এনসিপি দেশের সকল স্তরে আরো সক্রিয় হয়ে ওঠবে এবং রাজনীতিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তন এবং ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সক্রিয় নাগরিকত্বের চেতনা জাগাতে সহায়ক হবে।
সার্বিকভাবে, আজকের দিনটি এনসিপির জন্য ঐতিহাসিক, কারণ এটি এক বছরের সংক্ষিপ্ত সময়ে দেশের রাজনীতিতে দৃঢ় অবস্থান প্রতিষ্ঠার প্রমাণ। অনুষ্ঠানটি রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক দিক থেকে সমন্বিত, যা দলটির অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতিফলন।
কসমিক ডেস্ক