চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মধ্যে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলার আগে নজরদারি চালাতে ইরান একটি চীনা নির্মিত গুপ্তচর স্যাটেলাইট ব্যবহার করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। ব্রিটিশ প্রভাবশালী পত্রিকা Financial Times-এর বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে The Times of Israel।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘টিইই-০১বি’ নামের একটি স্যাটেলাইট চীনের একটি বেসরকারি কোম্পানি নির্মাণ ও উৎক্ষেপণ করে। পরে এটি গোপনে ক্রয় করে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps-এর অ্যারোস্পেস ইউনিট।
ফাঁস হওয়া সামরিক নথির তথ্য অনুযায়ী, এই স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইরানি কমান্ডাররা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর নজরদারি চালান। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল Saudi Arabia, Jordan, Bahrain এবং Iraq-এ অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলো।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চ মাসে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ও পরে এই স্যাটেলাইট দিয়ে বিভিন্ন ঘাঁটির ছবি সংগ্রহ করা হয়। বিশেষ করে Prince Sultan Air Base-এর ছবি ১৩, ১৪ ও ১৫ মার্চ ধারাবাহিকভাবে তোলা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৪ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ওই ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেন।
এ ছাড়া Muwaffaq Salti Air Base, US Fifth Fleet Headquarters এবং Erbil International Airport এলাকার ওপরও নজরদারি চালানো হয় বলে জানা গেছে।
চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান চীনের বেইজিংভিত্তিক একটি স্যাটেলাইট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের গ্রাউন্ড স্টেশন ব্যবহারের সুযোগ পায়। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ সম্ভব হয়, যা হামলার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত White House, CIA বা Pentagon-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। একইভাবে চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে নীরব রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই তথ্য সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, এতে চীন ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার গভীরতা নতুনভাবে সামনে আসবে।
এর আগেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইরান রাশিয়ার কাছ থেকেও স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ কৌশলে ইরান এখন আরও উন্নত সক্ষমতা অর্জন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলার জবাবে ইরান পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। যদিও দুই সপ্তাহ পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, তবুও পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, চীনা স্যাটেলাইট ব্যবহারের এই অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এটি প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতে প্রযুক্তিভিত্তিক যুদ্ধ আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে—এমন আশঙ্কাই করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কসমিক ডেস্ক