সমবায় ঋণের নামে শিক্ষকদের সর্বনাশ: কালাইয়ে ক্ষোভ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সমবায় ঋণের নামে শিক্ষকদের সর্বনাশ: কালাইয়ে ক্ষোভ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 13, 2026 ইং
সমবায় ঋণের নামে শিক্ষকদের সর্বনাশ: কালাইয়ে ক্ষোভ ছবির ক্যাপশন:
ad728

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড (কালব)-এর ঋণ কার্যক্রমকে ঘিরে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বল্প সুদে আর্থিক সহায়তা ও কল্যাণের আশ্বাস দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই সমবায় প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর কাছে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কালবের কালাই শাখা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এই উপজেলায় সমবায়টির মোট সদস্য সংখ্যা ৪৪০ জন। এসব সদস্যকে গড়ে তিন লাখ টাকা করে মোট প্রায় দুই কোটি ছয় লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। এসব ঋণের বিপরীতে বকেয়া মুনাফা দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং ঋণখেলাপির পরিমাণ প্রায় এক কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, ঋণ নেওয়ার সময় তাদের স্বল্প সুদ ও সহজ শর্তের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তাদের কোনো পাসবই বা লিখিত হিসাববিবরণী দেওয়া হয়নি। সুযোগ বুঝে সমবায় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এখন পর্যন্ত ৩৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে দুজন শিক্ষক কারাভোগ করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গ্রাহকদের নামে উকিল নোটিশ ও মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঋণের শর্ত অনুযায়ী মাসিক হাজারে ২০ টাকা সুদের কথা বলা হলেও বাস্তবে বার্ষিক ২৪ শতাংশ পর্যন্ত সুদ আরোপ করা হয়েছে। কিস্তি পরিশোধে সামান্য বিলম্ব হলেই সুদের ওপর আবার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা যোগ করা হয়েছে।

মোলামগাড়ীহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ট্রেড ইন্সট্রাক্টর আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিন বছর আগে তিনি কালব থেকে দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা ঋণ নেন এবং কিস্তির মাধ্যমে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করেন। এরপরও তাকে ঋণখেলাপি দেখিয়ে সাত লাখ টাকা পরিশোধের লাল নোটিশ দেওয়া হয়। টাকা পরিশোধ করার পরও তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একই এলাকার মোলামগাড়ীহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ করলেও ফাঁকা চেকের কারণে বেকায়দায় পড়ে অতিরিক্ত আরও সাড়ে ছয় লাখ টাকা দিতে হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে কালবের চেয়ারম্যান ও শান্তিনগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন বলেন, সমবায়ের ঋণ কার্যক্রম মাসিক সুদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। যারা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করেন না, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের ঋণে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ যোগ হয়। গ্রাহকদের গাফিলতির কারণেই আইনি ব্যবস্থা নিতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বছরে একবার তাদের কার্যক্রম অডিট করা হয়। এর বাইরে বিস্তারিত বিষয়ে তিনি অবগত নন।

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচন পর্যন্ত বাংলাদেশ–ভারত রেল যোগাযোগ স্থবির

নির্বাচন পর্যন্ত বাংলাদেশ–ভারত রেল যোগাযোগ স্থবির