২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদেই আটকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদেই আটকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 7, 2026 ইং
২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদেই আটকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ছবির ক্যাপশন:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইস্যুতে আটকে রয়েছে। জব্দ করা ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্তির প্রশ্নকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ী।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ী বলেন, আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান মনে করে এই জব্দকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

রেজায়ী জানান, তেহরানের প্রস্তাব অনুযায়ী অন্তর্বর্তী কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে প্রথম ধাপে ১২ বিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তী সময়ে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার মুক্ত করতে হবে। ইরানের মতে, এই অর্থ তাদের নিজস্ব সম্পদ এবং এটি ফেরত দেওয়া হলে আলোচনার নতুন পথ উন্মুক্ত হতে পারে।

তবে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান ভিন্ন। ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছেন, এত বড় অঙ্কের অর্থ আগাম মুক্ত করে দিলে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি চুক্তি চায়, যা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির তুলনায় আরও কঠোর হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।

রেজায়ী এ প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং এটি পারস্পরিক আস্থার প্রশ্ন। তার মতে, এই অর্থ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা সত্যিই সমঝোতার পথে এগোতে আগ্রহী।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি আলোচনার পরিবর্তে আবার সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তার দাবি, ভবিষ্যতে সংঘাত শুরু হলে তা কেবল পারস্য উপসাগরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৃহত্তর অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হরমুজ প্রণালির প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন রেজায়ী। তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর ইরান ও ওমানের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে এবং দুই দেশ যৌথভাবে এর ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করতে পারে। তবে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ফি আরোপের বিষয়টিকে তিনি ‘টোল’ হিসেবে অভিহিত করতে রাজি নন। তার ভাষ্য, এটি মূলত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রেজায়ী তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন কোনো বৈঠকের সম্ভাবনা নেই, কারণ আলোচনাই এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি, সামরিক সংঘাত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরোক্ষ আলোচনা চললেও তা এখনো কোনো কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার ঘটনার পর নতুন কোনো চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়েও তেহরানের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

মোহসেন রেজায়ী দাবি করেন, ইরান সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তার মতে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই সবচেয়ে ভালো পথ হলেও প্রয়োজনে দেশটির সামরিক সক্ষমতা কাজে লাগানোর প্রস্তুতিও রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ মুক্তির প্রশ্নটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে আস্থা, কূটনীতি এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কের অন্যতম প্রধান পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। আলোচনার ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
চাঁদপুরে চুরির ঘটনায় আতঙ্ক, পুলিশের অভিযান শুরু

চাঁদপুরে চুরির ঘটনায় আতঙ্ক, পুলিশের অভিযান শুরু