বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমির নাম উচ্চারিত হলেই অনেকের মনে ভেসে ওঠে ‘সিরিয়াল কিসার’ তকমাটি। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই পরিচয় তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকলেও সম্প্রতি জানা গেছে, এই ইমেজ কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না। বরং ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসার জন্য এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত জনসংযোগ ও বিপণন কৌশল।
সম্প্রতি অভিনেত্রী সোহা আলি খানের পডকাস্ট ‘অল অ্যাবাউট হার’-এ অংশ নিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেন পিআর পেশাজীবী পারুল গোসাই। তিনি জানান, ইমরান হাশমি নিজেই এই বিষয়টি প্রকাশ করার অনুমতি দিয়েছেন, কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই পরিচয়ের ভার বহন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন।
পারুলের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ইমরান প্রচারণা বা জনসংযোগ কার্যক্রমে খুব বেশি আগ্রহ দেখাতেন না। সেই সময় নির্মাতা মহেশ ভাট অভিনেতার জন্য একটি শক্তিশালী প্রচারণা পরিকল্পনা তৈরির কথা বলেন। সংবাদমাধ্যমে ইমরানের চুম্বন দৃশ্যসংবলিত খবরগুলো যে পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করছে, সেটি লক্ষ্য করেই একটি নতুন কৌশল নেওয়া হয়।
পরিকল্পনা ছিল এমন একটি ধারণা তৈরি করা, যাতে দর্শকদের মনে হয় ইমরান হাশমি তার প্রায় প্রতিটি ছবিতেই নায়িকাদের সঙ্গে চুম্বন দৃশ্যে অভিনয় করেন। এই ভাবমূর্তিকে কেন্দ্র করেই গড়ে তোলা হয় তার ব্র্যান্ড পরিচয়। মহেশ ভাটও এই ধারণাকে সমর্থন করেন এবং প্রচারণার অংশ হিসেবে বিষয়টি সামনে আনা হয়।
তবে শুরুতে এই পরিকল্পনা নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন ইমরান। বিশেষ করে তার স্ত্রী পারভীন কীভাবে বিষয়টি নেবেন, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। পরে বিষয়টি কেবল একটি প্রচারণা কৌশল—এ কথা তাকে বোঝানো হলে তিনি এতে সম্মতি দেন। এরপর ধীরে ধীরে এই ইমেজ দর্শকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশেষ করে ভারতের মফস্বল অঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
২০০৩ সালে ‘ফুটপাত’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হলেও ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মার্ডার’ সিনেমাই ইমরানের ক্যারিয়ারে বড় মোড় এনে দেয়। মল্লিকা শেরাওয়াতের সঙ্গে তার রসায়ন এবং সাহসী দৃশ্যগুলো দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এরপর থেকেই তিনি ‘সিরিয়াল কিসার’ নামে পরিচিতি পেতে শুরু করেন।
পরবর্তীতে একাধিক সাক্ষাৎকারে ইমরান হাশমি স্বীকার করেছেন যে, ব্যবসায়িক সাফল্যের কথা মাথায় রেখেই এই ইমেজকে কাজে লাগানো হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। ‘জান্নাত’, ‘আওয়ারাপন’, ‘সাংহাই’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অভিনয় দক্ষতার নতুন দিক তুলে ধরেন।
তবুও ‘সিরিয়াল কিসার’ পরিচয়টি আজও তার সঙ্গে রয়ে গেছে। ইমরানের মতে, ভারতের মতো সমাজে একবার কোনো তারকার একটি শক্তিশালী ইমেজ তৈরি হয়ে গেলে তা থেকে বেরিয়ে আসা সহজ নয়। ফলে এখনও বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলন ও সাক্ষাৎকারে তাকে সেই পুরোনো পরিচয় নিয়েই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।
কসমিক ডেস্ক