মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে Iran। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই স্পষ্টভাবে বলেছেন, যুদ্ধ, আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির একই চক্র বারবার চলতে দেওয়া হবে না। এই অবস্থান ইরানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ়ভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে এই প্রতিক্রিয়া আসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইরানকে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে।
এই বক্তব্যের জবাবে ইসমাঈল বাঘেই বলেন, চলমান সংঘাত শুধু ইরানের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চল এবং এর বাইরেও ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও Israel যৌথভাবে সামরিক হামলা চালিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এমন পরিস্থিতিতে ইরানও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত।
বাঘেই আরও বলেন, ইরান তার উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায় এবং তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে না। তবে তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এসব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।
তিনি এই সংঘাতকে ইরানের জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি ‘অন্যায় যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এই পরিস্থিতিতে ইরানের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ভাষণে দাবি করেন, প্রায় এক মাস ধরে চলা সংঘাতে ইরানের নৌ ও বিমান শক্তি উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, দেশটির অনেক শীর্ষ নেতাও নিহত হয়েছেন এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা কমে গেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা ‘অসাধারণ কাজ’ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের ব্যর্থ হতে দেবে না।
এছাড়া ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, দেশটি বিভিন্ন দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে। তার মতে, এই কারণেই ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
একই ভাষণে তিনি অন্য আন্তর্জাতিক বিষয়েও মন্তব্য করেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় মার্কিন সেনাদের ধন্যবাদ জানান এবং দাবি করেন, এতে বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক উন্নতির দিকে এগোচ্ছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করছে। একদিকে কূটনৈতিক চাপ ও সামরিক হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে পাল্টা প্রতিরোধের ঘোষণা—এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
কসমিক ডেস্ক