পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ছাত্র রাজনীতিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে ছাত্র অধিকার পরিষদের এক নেতার ওপর হামলা ও তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলা সদরের বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আহত নেতা হলেন হাসান মাহামুদ (২৫), যিনি দশমিনা উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক।
ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসান মাহামুদকে প্রথমে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত হাসান মাহামুদের অভিযোগ, দশমিনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশারের লোকজন তাকে মারধর করেছেন এবং তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি বাজার এলাকায় নিজের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ একদল লোক এসে তাকে আক্রমণ করে এবং দোকানে ভাঙচুর শুরু করে।
গণ অধিকার পরিষদের দশমিনা উপজেলা শাখার সদস্যসচিব মিলন মিয়া ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, চরবোরহান ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতের একটি ওয়ারেন্ট ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে উপজেলা সদরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশের সঙ্গে আবুল বশার ও তার লোকজনের বাগ্বিতণ্ডা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
মিলন মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে রাকিবুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় বিএনপির কর্মী ও ইউপি সদস্য ছিদ্দিক মিয়া এবং ছাত্রদল নেতা আবুল বশারের লোকজন বাজার এলাকায় গিয়ে হাসান মাহামুদকে মারধর করেন এবং তার দোকান ভাঙচুর করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত হাসান মাহামুদকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। দশমিনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে জানা গেছে।
এদিকে জেলা গণ অধিকার পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি কালাম পঞ্চায়েত বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নুরুল হকের (নুর) নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর এবং কর্মীদের মারধরের একটি মামলায় রাকিবুল ইসলাম আসামি ছিলেন। আদালতের ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তার দাবি, গ্রেপ্তারের পর প্রতিশোধমূলকভাবে ছাত্রদলের কিছু লোক হাসান মাহামুদকে মারধর করেন। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে দশমিনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম বলেন, আসামিকে থানায় আনার পর স্থানীয় পর্যায়ে কোনো ঝামেলার কথা তিনি শুনেছেন। তবে হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো তার কাছে নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, বাজার এলাকায় এমন সহিংস ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সহিংসতা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঝেমধ্যে সহিংসতায় রূপ নেয়। তবে এ ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত ও নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
হাসান মাহামুদের পরিবার ও সহকর্মীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আহত নেতার দ্রুত সুস্থতা কামনার পাশাপাশি তারা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, দশমিনায় ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতার ওপর হামলার অভিযোগ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।