চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (২৫ মে) সকালে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ-এ র্যাব-১০ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ইউনিটটির অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
তিনি জানান, নরসিংদী সদর এলাকা থেকে মো. তারেক সরকার এবং তার সহযোগী মো. পলাশ কবিরকে ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি গত প্রায় ছয় বছর ধরে সক্রিয় ছিল। তারা নিজেদেরকে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিত। এভাবে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত।
প্রতারকরা আধুনিক প্রযুক্তিকেও কাজে লাগাত। তারা হোয়াটসঅ্যাপ-এ ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। প্রথমে সম্পর্ক তৈরি করে আস্থা অর্জন করা হতো, এরপর চাকরি নিশ্চিত করার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হতো।
র্যাব কর্মকর্তা জানান, এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে এক থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে টাকা নেওয়া হতো, যাতে তারা প্রতারণার বিষয়টি সহজে বুঝতে না পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রতারকরা ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর বা সামরিক বাহিনীতে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিত। কখনো ভুয়া নিয়োগপত্রও দেখানো হতো, যাতে প্রতারণাটি আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, বর্তমানে দেশে চাকরির চাহিদা বেশি থাকায় এ ধরনের প্রতারণার ঝুঁকিও বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ চাকরিপ্রার্থীরা সহজে এই ফাঁদে পড়ে যাচ্ছেন। তাই কোনো চাকরির প্রস্তাব পেলে তা যাচাই-বাছাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে চাকরির প্রলোভনে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়াই নিরাপদ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কসমিক ডেস্ক