ইসলামী ব্যাংকের একটি প্রকল্প থেকে নির্বাচনী সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে একটি রাজনৈতিক দলকে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ বিধির আওতায় আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের ‘রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম (আরডিএস)’ নামের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প রয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো স্বল্প আয়ের মানুষকে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করা। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে এই প্রকল্পের আওতায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে এবং তা ভোটারদের প্রভাবিত করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি সংসদে বলেন, আরডিএস প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার কোটি টাকা পূর্বে বিতরণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে আরও ১১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে, যার সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ কার্যক্রমেও বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মবহির্ভূতভাবে বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাতেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাংকে প্রায় ৯ হাজার কর্মীকে নিয়মনীতি অনুসরণ না করে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একই সময়ে ৬ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ১৩ হাজার কর্মীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবিতে সংসদে একটি নোটিশ উত্থাপন করেন।
সেই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের শেয়ার মালিকানা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে এবং প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক জনস্বার্থে যেকোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন বা পরিচালক অপসারণের আইনি ক্ষমতা রাখে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
সংসদে আলোচনার সময় ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, মালিকানা কাঠামো এবং পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মতামত উঠে আসে। বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর এখন নজর রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক