বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের বর্তমান পরিস্থিতি সরাসরি পর্যালোচনা করতে উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এই লক্ষ্যে সংস্থাটি দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ সফরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভারতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত আইসিসির সাম্প্রতিক বোর্ড সভা শেষে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার (সিএসএ) ড. মোহাম্মদ মুসাজি এবং জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের চেয়ারম্যান টাভেঙ্গা মুকুহলানি বাংলাদেশ সফরে আসবেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য হবে বিসিবির নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা।
আইসিসি জানিয়েছে, এই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসে ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করবে। এর মাধ্যমে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরবেন, যা পরে আইসিসি বোর্ডের কাছে উপস্থাপন করা হবে। যদিও সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে বিসিবির পক্ষ থেকে ধারণা দেওয়া হয়েছে যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই সফর হতে পারে।
বিসিবিও এর আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, আইসিসির প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা করছে। তারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবে।
আইসিসির এই পদক্ষেপকে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন, কারণ বিসিবির নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এ ধরনের প্রতিনিধিদল পাঠানো খুব একটা সাধারণ ঘটনা নয়। জানা গেছে, সাবেক পরিচালক আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী পরিচালনা পর্ষদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, আইসিসি যে দুই কর্মকর্তাকে পাঠাচ্ছে—ড. মোহাম্মদ মুসাজি এবং টাভেঙ্গা মুকুহলানি—তারা দুজনই আইসিসির বর্তমান চেয়ারম্যান জয় শাহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ফলে এই সফরের ফলাফল নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে আগ্রহ আরও বেড়েছে।
শুধু বিসিবির নির্বাচন নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক অন্যান্য বিষয়ও এই সফরে গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বিসিবির সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগেও আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধি দেবজিৎ সাইকিয়া বাংলাদেশ সফর করেছেন। তারা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। ফলে ধারাবাহিকভাবে আইসিসির নজর এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট প্রশাসনের ওপর রয়েছে।
আহমেদাবাদের বোর্ড সভায় আইসিসি নারী ক্রিকেট, সহযোগী সদস্য দেশ, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট এবং সদস্যপদ সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট প্রশাসনিক পরিস্থিতিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়েছে।
সবশেষে বলা যায়, বিসিবির নির্বাচন ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আইসিসির এই সরাসরি নজরদারি বাংলাদেশের ক্রিকেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এই সফরের মাধ্যমে যে তথ্য উঠে আসবে, তা ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পথও তৈরি করতে পারে।
কসমিক ডেস্ক