শয়তান মানুষের চিরশত্রু। সে সর্বদা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করে। কখনো কুমন্ত্রণা দিয়ে, কখনো পাপকে সুন্দর করে উপস্থাপন করে, আবার কখনো সন্দেহ ও হতাশা সৃষ্টি করে মানুষের ঈমান দুর্বল করে দেয়। তাই একজন মুমিনের জন্য শয়তানের অনিষ্ট থেকে নিজেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
ইসলামে শয়তান থেকে সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন দোয়া ও জিকিরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হলো—
لا إلهَ إلاَّ اللَّه وحْدهُ لاَ شَرِيكَ لهُ، لَهُ المُلْكُ، ولَهُ الحمْدُ، وَهُو عَلَى كُلِّ شَيءٍ قَدِيرٌ
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই জন্য এবং তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
এই দোয়ার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর একত্ববাদ, ক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করে নেয়। এটি ঈমানকে দৃঢ় করে এবং অন্তরকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে দূরে রাখে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি দিনে একশ বার এই দোয়া পাঠ করবে, তা তার জন্য পুরো দিন শয়তান থেকে সুরক্ষার মাধ্যম হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৯৩)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, নিয়মিত জিকির শুধু মুখের ইবাদত নয়; বরং এটি আত্মিক নিরাপত্তার ঢাল হিসেবে কাজ করে। শয়তানের আক্রমণ থেকে বাঁচতে শুধু সতর্কতা নয়, বরং আল্লাহর স্মরণে নিজেকে ব্যস্ত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একজন মুমিন যখন এই দোয়া নিয়মিত পাঠ করে, তখন তার হৃদয়ে আল্লাহর স্মরণ বৃদ্ধি পায়, পাপের প্রবণতা কমে যায় এবং নফস ও শয়তানের প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে সে সহজেই সঠিক পথে চলতে সক্ষম হয়।
অতএব, শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে কেবল ইচ্ছা যথেষ্ট নয়; বরং নবী (সা.)-এর শেখানো জিকির ও দোয়া নিয়মিতভাবে পালন করাই প্রকৃত নিরাপত্তার পথ।
কসমিক ডেস্ক