কুড়িগ্রামে সরকারি ওষুধ পাচারের সময় স্টোরকিপার গ্রেপ্তার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কুড়িগ্রামে সরকারি ওষুধ পাচারের সময় স্টোরকিপার গ্রেপ্তার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 10, 2026 ইং
কুড়িগ্রামে সরকারি ওষুধ পাচারের সময় স্টোরকিপার গ্রেপ্তার ছবির ক্যাপশন:

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাচারের চেষ্টা করার সময় স্টোরকিপার ফারুক আহমেদ (৪৩)কে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (৯ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কলেজপাড়া মাস্টার কলোনিপাড়া এলাকার একটি কুরিয়ার সার্ভিসের বুকিং অফিস থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন দুপুরে ফারুক আহমেদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট এবং ১৮টি ওজন পরিমাপক যন্ত্র বের করেন। এরপর সন্ধ্যায় তিনি এসব সামগ্রী কলেজপাড়া এলাকার কুরিয়ার সার্ভিস অফিসে নিয়ে গিয়ে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কুরিয়ার অফিস থেকে ফারুক আহমেদকে আটক করে এবং তার কাছে থাকা সরকারি ওষুধ ও যন্ত্রপাতি জব্দ করে। জিজ্ঞাসাবাদে এবং বুকিং ঠিকানার তথ্য অনুযায়ী, এই ওষুধ ও যন্ত্রপাতি ঢাকার বাবুবাজারের মিটফোর্ড এলাকার এক ব্যক্তির কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল।

কুরিয়ার সার্ভিসের স্থানীয় অপারেশন অপারেটর আরিফুল ইসলাম খান জানান, ফারুক আহমেদ কিছু পণ্য ঢাকায় পাঠানোর জন্য নিয়ে আসেন। প্যাকেট খোলার পর দেখা যায়, সেখানে সরকারি বিনামূল্যের ওষুধ এবং ওজন পরিমাপক যন্ত্র রয়েছে। বিষয়টি জানার পর পুলিশকে অবহিত করা হয়।

রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বলেন, জব্দ করা ওষুধ এবং ওজন মাপার যন্ত্রগুলো সরাসরি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী জানান, “কুরিয়ার সার্ভিসের বুকিং অফিস থেকে সরকারি ওষুধসহ স্টোরকিপারকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন আরও জানিয়েছেন যে, সরকারি ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম পাচারের মতো ঘটনা রোগীদের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এসব ওষুধ মূলত বিনামূল্যে সরবরাহিত হয় এবং জনস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমন ধরনের অপরাধ স্বাস্থ্য খাতের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সাধারণ মানুষের আস্থা হ্রাস করতে পারে।

স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুষ্ঠু তদারকি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, যাতে এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা যায়। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরগুলোর নিয়মিত নজরদারি এবং কর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

এ ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে সরকারি সম্পদ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রশাসন এবং স্থানীয় কমিউনিটি একযোগে কাজ করলে সরকারি ওষুধ পাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব। পুলিশ ইতোমধ্যে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এবং মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে।

ফারুক আহমেদকে আটক করে জব্দ করা ওষুধ ও যন্ত্রপাতি যথাযথভাবে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, এ ধরনের অপরাধে শাস্তির মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদে অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নয়াপল্টনের স্কুলে শিশু নির্যাতন: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

নয়াপল্টনের স্কুলে শিশু নির্যাতন: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার