পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের দেশে ফেরার কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ৫২টি ফিরতি ফ্লাইটে ২১ হাজার ৩৪৩ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরে এসেছেন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হজ বুলেটিনের তথ্যমতে, চলতি হজ মৌসুমে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে অবস্থানকালে ৪৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ২৯ জন পুরুষ এবং ১৫ জন নারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে মক্কায় ৩৪ জন এবং মদিনায় ১০ জন ইন্তেকাল করেন বলে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাজিদের জন্য সৌদি আরবে চিকিৎসা ও সেবা কার্যক্রম চলমান ছিল এবং এখনো কিছু হাজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ফিরতি যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন এয়ারলাইনস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ২৩৭ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়েছে। সৌদি এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ফিরেছেন ৭ হাজার ৩৫৫ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ৭ হাজার ৭০০ জন হাজি বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। এছাড়া অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে আরও ৫১ জন হজযাত্রী দেশে ফিরেছেন বলে হজ বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রা শুরু হয় ১৮ এপ্রিল থেকে এবং সর্বশেষ ফ্লাইট যায় ২১ মে। হজ কার্যক্রম সম্পন্ন হয় ২৬ মে তারিখে। এরপর থেকেই শুরু হয় ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে দেশে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজযাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হজ মিশন, বিমান সংস্থা এবং সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং এরপর হজ মৌসুমের প্রত্যাবর্তন পর্ব সম্পূর্ণভাবে শেষ হবে।
এছাড়া সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি হাজিদের জন্য চিকিৎসা সেবা ও সহায়তা কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। হজ মিশনের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত ৫৪ হাজার ২৯৮টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। একইসঙ্গে আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৪ হাজার ৮০০টি সেবা প্রদান করা হয়েছে, যা হাজিদের জরুরি সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের হজ কার্যক্রমে যাত্রী পরিবহন, চিকিৎসা সেবা এবং ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনায় একটি সমন্বিত কাঠামোর মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে। যদিও কিছু সংখ্যক হজযাত্রীর মৃত্যু ঘটেছে, তবে বাকি হাজিদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সব মিলিয়ে, হজ শেষে বাংলাদেশি হাজিদের দেশে ফেরার কার্যক্রম এখন শেষ পর্যায়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং আগামী ৩০ জুনের মধ্যে পুরো প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক