২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকতেই ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি বড় প্রশ্ন—কে জিতবে এবারের বিশ্বকাপ? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টা সুপারকম্পিউটার ১০ হাজারবার টুর্নামেন্ট সিমুলেশন চালিয়েছে।
এই বিশ্লেষণের ফলাফল অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ফেভারিট হিসেবে উঠে এসেছে স্পেন। সুপারকম্পিউটারের হিসাব বলছে, স্পেনের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ১৬.১ শতাংশ, যা অংশগ্রহণকারী ৪৮ দলের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরো ২০২৪ জয়ী স্পেন বর্তমানে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী দল হিসেবে গড়ে উঠেছে। তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল, অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার রদ্রি এবং সমন্বিত স্কোয়াড তাদের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
স্পেনের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২ সালের রানার্সআপ ফ্রান্সের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ১৩ শতাংশ। শক্তিশালী স্কোয়াড ও গভীরতা থাকায় ফ্রান্সকে সবসময়ই অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড, যাদের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ১১.২ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে বড় টুর্নামেন্টে শিরোপার খরা কাটাতে না পারলেও তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মিশ্রণে দলটি এবারও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা রয়েছে চতুর্থ স্থানে, যাদের সম্ভাবনা ১০.৪ শতাংশ। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ২০২২ সালের শিরোপা জয়ী দলটি এবারও শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।
শীর্ষ পাঁচে জায়গা পেয়েছে পর্তুগালও। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর নেতৃত্বাধীন দলটির শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৭ শতাংশ। শক্তিশালী আক্রমণভাগ এবং অভিজ্ঞতার কারণে তারা যেকোনো সময় বড় চমক দেখাতে পারে।
এরপর রয়েছে ব্রাজিল (৬.৬ শতাংশ) এবং জার্মানি (৫.১ শতাংশ)। দুই পরাশক্তি দলই সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকতার অভাবে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও তাদের ইতিহাস ও স্কোয়াড গভীরতা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাখছে।
অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, বেলজিয়াম, কলম্বিয়া এবং মরক্কোকে ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে এবং আফ্রিকার শক্তিশালী প্রতিনিধি মরক্কো বড় চমক দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে আয়োজক দেশগুলোর সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। যুক্তরাষ্ট্রের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ১.২ শতাংশ, আর মেক্সিকো ও কানাডার সম্ভাবনা ১ শতাংশ বা তার নিচে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অপ্টার ১০ হাজার সিমুলেশন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপ হবে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অনিশ্চিত। যদিও স্পেনকে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়েছে, তবে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার খুব কাছাকাছি অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে চূড়ান্ত ফলাফল যেকোনো দিকেই যেতে পারে।
সব মিলিয়ে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপকে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ আসর হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে শিরোপার লড়াই হবে একেবারেই খোলা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
কসমিক ডেস্ক