ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা সামরিক অভিযানকে ‘ব্যর্থ’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছিল তা সফল হয়নি এবং বর্তমানে তারা বিকল্প পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে, কিন্তু সেগুলোও কার্যকর হচ্ছে না।
প্রথম পরিকল্পনা ব্যর্থ
আব্বাস আরাগচি বলেন,
“তাদের প্রথম পরিকল্পনা, অর্থাৎ প্ল্যান-এ ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা অন্য পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। কিন্তু সেগুলোও একইভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।”
তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চালানো এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জন্য প্রত্যাশিত ফল বয়ে আনতে পারেনি।
যুদ্ধের লক্ষ্য নেই
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামনে যুদ্ধের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই।
তিনি বলেন,
“আমি দেখছি না যে তারা কোনো যৌক্তিক লক্ষ্য অনুসরণ করছে। শুরুতে তারা তাদের উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল। এখন ১০ দিন পার হওয়ার পর মনে হচ্ছে তারা পুরোপুরি লক্ষ্যহীন হয়ে পড়েছে।”
আরাগচির মতে, স্পষ্ট কৌশল বা লক্ষ্য না থাকায় সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠছে।
আবাসিক এলাকায় হামলার অভিযোগ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আবাসিক এলাকাগুলোতে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে।
তার দাবি, সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর তারা বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
এই হামলার ফলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা
আরাগচি আরও বলেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে।
তার মতে, এসব হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন,
“ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে তারা বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী করে তুলেছে।”
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং ইরানের মধ্যে চলমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
কসমিক ডেস্ক