ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বজ্রাঘাতে এএসএম খালেকুল আজাদ (৫৬) নামে এক কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর সোয়া একটার দিকে উপজেলার বড়গ্রাম ইউনিয়নের রঘুনাথপুর রৌয়ারচর বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত খালেকুল আজাদ উপজেলার রঘুনাথপুর রৌয়ারচর গ্রামের মৃত হাজী ইউসুফ আলীর ছেলে। তিনি মুক্তাগাছা উপজেলার গাবতলী ডিগ্রী কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলেজ বন্ধ থাকায় তিনি ওইদিন মসজিদ নির্মাণ কাজের তদারকি করছিলেন। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয় এবং এর সঙ্গে বজ্রপাতও হতে থাকে। তখন উপস্থিত লোকজন নিরাপদ স্থানে চলে যান।
তবে খালেকুল আজাদ পাশের একটি আমগাছের নিচে আশ্রয় নেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সায়েম তানভীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে গেলে অনেকেই নিরাপদ স্থানে সরে গেলেও তিনি বাইরে অবস্থান করছিলেন, যার ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শিক্ষাঙ্গনে তার অবদান স্মরণ করে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোকবার্তা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা সাধারণত বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা, গাছের নিচে বা উঁচু স্থানে না থাকার পরামর্শ দেন। এই ধরনের অসতর্কতা প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনও দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং বজ্রপাতের সময় জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক