যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বড় ধরনের স্থল সামরিক অভিযান চালানো হলেও ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব নাও হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে একটি মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে প্রস্তুত করা এই মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সামরিক আক্রমণ সত্ত্বেও ইরানের ক্ষমতাসীন শাসনব্যবস্থাকে অপসারণ করা অত্যন্ত কঠিন হতে পারে।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএস ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে এই গোয়েন্দা মূল্যায়নটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে “বড় আকারের” সামরিক হামলা চালানো হলেও তা ইরানের শাসক সরকারকে সরিয়ে দিতে পারবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, যুদ্ধের সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে বলা হয়েছিল যে, সংঘাত চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষণে এই পূর্বাভাস নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা মূল্যায়নের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এই গোয়েন্দা মূল্যায়ন প্রস্তুত করা হয়।
খবরে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই হামলার প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সূত্র থেকে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের বিরোধী শক্তিগুলো বর্তমানে বিভক্ত এবং সংগঠিতভাবে ক্ষমতা গ্রহণের মতো শক্ত অবস্থানে নেই। ফলে বর্তমান সরকার দুর্বল হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প কোনো শক্তি ক্ষমতায় আসতে পারবে—এমন সম্ভাবনাও খুব কম।
সূত্রগুলোর মতে, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বিরোধী শক্তিগুলোর ক্ষমতা দখলের সম্ভাবনাকে “অসম্ভাব্য” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ সামরিক হামলা বা সংঘাতের কারণে সরকার দুর্বল হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটবে—এমন পরিস্থিতি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী রাষ্ট্রক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে। ফলে বহিরাগত সামরিক চাপ থাকলেও রাষ্ট্রব্যবস্থা দ্রুত ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম।
এছাড়া ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা এবং সামরিক সক্ষমতাও সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বড় আকারের স্থল অভিযান পরিচালনা করা যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের জন্যও একটি জটিল ও ব্যয়বহুল সামরিক পদক্ষেপ হতে পারে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বলা হয়েছে, ইরানে শাসন পরিবর্তন ঘটানো সহজ নয় এবং সামরিক হামলা একা তা নিশ্চিত করতে পারবে না।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই প্রতিবেদন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর হতে পারে।
এদিকে এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ ধরনের মূল্যায়ন ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
কসমিক ডেস্ক