ফ্রান্স থেকে রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা ব্যয় প্যাকেজে সায় দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিমানবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখার জন্য একাধিক সামরিক সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম The Indian Express শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ফ্রান্স থেকে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (ডিএসি)। যদিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় নির্দিষ্ট সংখ্যার কথা উল্লেখ করেনি, তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বড় ক্রয়চুক্তির আওতায় মোট ১১৪টি যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মধ্যে ১৮টি সরাসরি ফরাসি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Dassault Aviation-এর কাছ থেকে আনা হবে। বাকি ৯৬টি তৈরি হবে ভারতের মাটিতে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি রুপি, যা প্রায় ৩ হাজার ৯৭০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ, এমন একটি বিশাল প্রতিরক্ষা ব্যয় প্যাকেজ অনুমোদন করা হয়েছে। এই প্যাকেজের আওতায় শুধু যুদ্ধবিমান নয়, নৌবাহিনী ও স্থলবাহিনীর জন্যও বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নৌবাহিনীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বোয়িং পি-৮আই পোসেইডন নজরদারি বিমান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্থলবাহিনীর জন্য অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন সংগ্রহ এবং সোভিয়েত আমলের টি-৭২ ট্যাংক ও বিএমপি-২ সাঁজোয়া যান আধুনিকায়নের উদ্যোগও এই প্যাকেজের অংশ।
ভারতের বিমানবাহিনীতে দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধবিমানের ঘাটতি নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০২৪ সালের একটি সংসদীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিমানবাহিনীর প্রয়োজন কমপক্ষে ৪২টি স্কোয়াড্রন, অথচ বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে মাত্র ২৯টি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে স্নায়ুযুদ্ধকালীন মিগ-২১ যুদ্ধবিমানের দুটি স্কোয়াড্রন অবসরে পাঠানো হয়। আগামী বছরগুলোতে আরও কিছু পুরোনো বিমান অবসর নেওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন রাফাল যুদ্ধবিমান সংগ্রহকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত এপ্রিলে নৌবাহিনীর জন্য ২৬টি রাফাল-মেরিন যুদ্ধবিমান কেনার আদেশ দেয় ভারত। দাসো এভিয়েশন জানিয়েছে, ফ্রান্সের বাইরে ভারতই প্রথম দেশ, যারা এই বিশেষ সংস্করণ ব্যবহার করতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময় ভারতীয় বিমানবাহিনী রাফাল ব্যবহার করেছিল। সে সময় পাকিস্তানের চীনা জে-১০সি যুদ্ধবিমানের সঙ্গে লড়াইয়ে অন্তত একটি রাফাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে।
এদিকে আগামী ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি ভারত সফরে থাকবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সফরকালে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার নিয়ে আলোচনা করবেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই নেতা ‘ইন্ডিয়া–ফ্রান্স ইয়ার অব ইনোভেশন’ উদ্বোধন করবেন এবং নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশ নেবেন।
সব মিলিয়ে, রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার এই অনুমোদন শুধু সামরিক শক্তি বৃদ্ধির দিক থেকেই নয়, ভারত-ফ্রান্স প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।