দেশের বাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে সোনা ও রুপার দামে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে টানা দুই দফায় এই মূল্যবান ধাতুর দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এই সিদ্ধান্তে ভরিতে সোনার পাশাপাশি রুপার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সবশেষ সোমবার (১৫ জুন) বাজুস এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোনা ও রুপার নতুন দর নির্ধারণ করে, যা একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টানা দুই দফা সমন্বয়ে সোনার ভরিতে মোট ১২ হাজার ৭২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে রুপার ভরিতে দাম বেড়েছে ৫২৪ টাকা।
সোমবার এক দফা সমন্বয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। পাশাপাশি অন্যান্য ক্যারেটেও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ২১ ক্যারেটের সোনা ভরিতে ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের সোনা ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ভরিতে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজুস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা-রুপার (পিওর গোল্ড ও সিলভার) মূল্য বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে সর্বশেষ ১৩ জুনও দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সে সময় ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই দিনে অন্যান্য ক্যারেটের দামও বৃদ্ধি পায়। তখন ২১ ক্যারেট সোনা ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সব মিলিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে সোনার দাম মোট ৭৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ বার দাম বৃদ্ধি এবং ৩৬ বার কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় হয়েছিল, যার বেশিরভাগ সময়ই ছিল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা।
অন্যদিকে রুপার বাজারেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ সমন্বয়ে ২২ ক্যারেট রুপার ভরিতে ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ৪৬ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ দফা দাম বৃদ্ধি এবং ২২ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে মোট ১৩ বার সমন্বয় হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা, ডলারের মূল্য ওঠানামা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার চাপের কারণে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে এমন ঘন ঘন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে টানা দুই দফার এই মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের স্বর্ণ ও রুপার বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
কসমিক ডেস্ক