ঐতিহাসিক ভাষণে ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর পরিকল্পনা তুলে ধরলেন তারেক রহমান The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ঐতিহাসিক ভাষণে ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর পরিকল্পনা তুলে ধরলেন তারেক রহমান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 27, 2025 ইং
ঐতিহাসিক ভাষণে ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর পরিকল্পনা তুলে ধরলেন তারেক রহমান ছবির ক্যাপশন:

দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসন শেষে স্বদেশে ফিরে প্রথম জনসভায় ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত গণসমাবেশে তিনি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অধিকার ও নিরাপত্তাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করেন।

ভাষণের শুরুতে মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ বক্তৃতার উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, মার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন—তার একটি স্বপ্ন আছে। আজ আমি বলতে চাই, বাংলাদেশের জন্য আমার একটি পরিকল্পনা আছে। তিনি ইংরেজিতে বলেন, “আই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।”

তারেক রহমান তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে একই ঐতিহাসিক ধারায় যুক্ত করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি, আর ২০২৪ সালে সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছি। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে।

দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সবার জন্য। এখানে পাহাড় ও সমতল আছে, বসবাস করে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ। বিএনপি এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে নারী, পুরুষ ও শিশুরা নির্ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারবে এবং নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে।

ভাষণে তিনি রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি শক্তিশালী অর্থনীতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। যুব ও তরুণ সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তরুণ প্রজন্মকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।

তিনি শহীদ ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির কথা স্মরণ করে বলেন, হাদি একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার হত্যার বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করেন তিনি।

দীর্ঘ ১৭ বছর তিন মাস নির্বাসনে থাকার সময় দলের যেসব নেতা-কর্মী নির্যাতন ও জেল-জুলুম সহ্য করে বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছেন, তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশবাসীর সমর্থন থাকলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ এই ভাষণ শেষে গণসমাবেশের মঞ্চ থেকে তিনি সরাসরি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি গুরুতর অসুস্থ মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

আওয়ামী লীগ আসন্ন নির্বাচনে নিষিদ্ধ থাকায় রাজনৈতিক মাঠ বর্তমানে অনেকটাই বিএনপির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নওগাঁয় আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির দুই প্রার্থীকে শোকজ

নওগাঁয় আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির দুই প্রার্থীকে শোকজ