ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তরের মাধ্যমে করানোর প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। হাদি হত্যার বিচার দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা এলো।
বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার তদন্তের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকার এ মামলায় পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মানের যেকোনো তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।
প্রেস সচিব এই সিদ্ধান্তের কথা জানানোর সময়ই হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সংগঠনটির একাধিক সদস্য যমুনার দিকে অগ্রসর হন। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ছয় দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে মারা যান। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে চলা আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের উদ্দেশ্যে বিজয়নগর এলাকায় গেলে চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে লক্ষ্য করে চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা এক যুবক গুলি করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অস্ত্রোপচারের পর ওই রাতেই ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যা ধারা যুক্ত করা হয়। শুরুতে থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরবর্তীতে মামলার দায়িত্ব দেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশের কাছে।
তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ সাবেক এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার পাশাপাশি পলাতক থাকতে সহায়তা এবং অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়। আসামিদের মধ্যে কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কসমিক ডেস্ক