যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের পর্যালোচনা এড়িয়ে ইসরায়েলের কাছে বিশাল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। ৬ মার্চের এই সিদ্ধান্ত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নেয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনৈতিক-সামরিক বিষয়ক ব্যুরো জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েলকে ১২ হাজার ‘ব্লু-১১০ এ/বি’ সাধারণ বোমা সরবরাহ করা হবে, যার প্রতিটির ওজন ১ হাজার পাউন্ড। এছাড়া প্রকৌশল এবং প্রযুক্তিগত সহায়তাও প্রদান করা হবে।
চুক্তির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে টেক্সাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘রেপকন ইউএসএ’। কিছু সরঞ্জাম সরাসরি মার্কিন সামরিক বাহিনীর মজুদ থেকে পাঠানো হবে। সাধারণ পরিস্থিতিতে এই ধরনের অস্ত্র বিক্রির জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতি এবং চলমান যুদ্ধে অবিলম্বে সমর্থন প্রদানের কারণে কংগ্রেসের ছাড়পত্র ছাড়াই বিক্রয় করা হচ্ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান-ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ ১৩শ-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া কুয়েতে এক ড্রোন হামলায় ৬ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে এই অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। প্রতিনিধি সভার পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন বারবার দাবি করেছে যে তারা এই যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। কিন্তু কংগ্রেসকে এড়িয়ে জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করার এই তোড়জোড় অন্য গল্প বলছে। এই জরুরি অবস্থা ট্রাম্প প্রশাসনেরই সৃষ্টি।’
গত জুলাই মাসেও গাজার মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসরায়েলের জন্য অস্ত্র বিক্রির বিপক্ষে ২৭ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ভোট দিয়েছিলেন। যদিও সেই প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত পাস হয়নি। সমালোচকরা মনে করেন, ইসরায়েলের সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধির এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই বিক্রয় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধে সরাসরি সামরিক সমর্থন প্রদর্শন করছে। এছাড়া এ ধরনের পদক্ষেপে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেতে পারে। ইসরায়েলকে সরবরাহকৃত ‘ব্লু-১১০’ বোমাগুলো প্রধানত বিমান হামলায় ব্যবহারযোগ্য এবং লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষতি বাড়াতে সক্ষম।
এই অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করছে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এই বিক্রয় যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে এবং কংগ্রেসের পর্যালোচনা বাদ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
সার্বিকভাবে, এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে তীব্র করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জরুরি অস্ত্র বিক্রি ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে সরাসরি সমর্থন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, মানবিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় এ ধরনের পদক্ষেপ যথাযথ নয়।
এভাবে, ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনার মাত্রা বৃদ্ধি করেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কাড়ছে।
কসমিক ডেস্ক